Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূমিদপ্তরের নামে ভুয়ো অ্যাপ ঘিরে ‘প্রতারণার জাল’ রাজ্যে, অ্যাপ ডাউনলোড ১০ লক্ষাধিক, থানায় অভিযোগ

ইন্টারনেটের সৌজন্যে এখন গোটা বিশ্ব কার্যত হাতের মুঠোয়! মোবাইলে স্রেফ কয়েকবার আঙুল ছুঁইয়ে ঘরে বসেই সেরে নেওয়া যায় সরকারি-বেসরকারি হাজারটা কাজ

ভূমিদপ্তরের নামে ভুয়ো অ্যাপ ঘিরে ‘প্রতারণার জাল’ রাজ্যে, অ্যাপ ডাউনলোড ১০ লক্ষাধিক, থানায় অভিযোগ
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী ও প্রীতেশ বসু: বিধাননগর ও কলকাতা: হাতে হাতে স্মার্টফোন। ইন্টারনেটের সৌজন্যে এখন গোটা বিশ্ব কার্যত হাতের মুঠোয়! মোবাইলে স্রেফ কয়েকবার আঙুল ছুঁইয়ে ঘরে বসেই সেরে নেওয়া যায় সরকারি-বেসরকারি হাজারটা কাজ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যবাসীকে উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির সবরকম সুবিধা পাইয়ে দিতে তৎপর রাজ্য সরকার। সেই সূত্রেই নাগরিকদের জমি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিতে নির্দিষ্ট পোর্টাল এবং অ্যাপ চালু করেছে ভূমিদপ্তর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ওই সরকারি অ্যাপের আদলে তৈরি একটি নকল অ্যাপ জমিজায়গা সংক্রান্ত তথ্য দিচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসার পরই নকল অ্যাপ বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিয়েছে ভূমিদপ্তর। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। ওই নকল অ্যাপের ‘ডাউনলোড হিস্ট্রি’ থেকে দেখা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ১০ লক্ষের বেশি মানুষ ওই তা ডাউনলোড করে ফেলেছেন নিজেদের ফোনে।

Advertisement

রাজ্য সরকারের ভূমিদপ্তর ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘বাংলারভূমি’ নামে একটি সরকারি পোর্টাল রয়েছে। সেই সঙ্গে ‘জমির তথ্য’ নামে সরকারের নিজস্ব একটি অ্যাপও আছে। সেখান থেকে জমির খতিয়ান অনুসন্ধান, জমির ক্ষেত্রফল বের করা, প্লট ম্যাপিং, সম্পত্তির মূল্যায়ন, জমির মালিকানা ও জমির চরিত্র সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়। দপ্তরের অভিযোগ, ‘জমির তথ্য’ অ্যাপের আদলে ‘ভূমির তথ্য’ নামে একটি নকল অ্যাপ বাজারে আনা হয়েছে। গুগল প্লে-স্টোর থেকে যে কেউ তা ডাউনলোডও করতে পারছেন। ওই অ্যাপ থেকে জমি সংক্রান্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার সঙ্গে সরকারি অ্যাপের তথ্য অভিন্ন বলেই জানা যাচ্ছে। 
আগেও এই ধরনের নকল অ্যাপ সামনে এসেছে। নতুন করে বিষয়টি মাথাচাড়া দেওয়ায় ভূমিদপ্তরের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর গত ২৪ মে বিধাননগর সাইবার ক্রা‌ইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ‘ভূমির তথ্য’ অ্যাপটি অবৈধভাবে সরকারি তথ্য ব্যবহার করছে বলেও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। এডিজি স্তরের আধিকারিকরা সরাসরি মনিটরিং করছেন তদন্তের। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, যে কোনও নকল অ্যাপে বিপদ লুকিয়ে রয়েছে। কারণ, অ্যাপ ডাউনলোড করে ফোনে ‘ইনস্টল’ করতে হয়। তার জন্য ব্যবহারকারীকেই অনুমতি দিতে হয়। কোনও নকল অ্যাপ ফোনে ‘ইনস্টল’ থাকলে ফোনের সমস্ত তথ্য বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 
ভূমিদপ্তরের দাবি, মাঝেমধ্যেই কিছু ডেভেলপার ভুয়ো অ্যাপ বানিয়ে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছে। বছরখানেক আগে এমন ঘটনা নজরে আসায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এবারও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিসকে বলা হয়েছে, এই জালিয়াতরা কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই ভুয়ো অ্যাপ চালাচ্ছে এবং সেই তথ্য তারা পাচ্ছে কোথা থেকে, তাও তদন্ত করে দেখতে হবে। নবান্নের তরফে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে, জমিজায়গা সংক্রান্ত কোনও তথ্যের প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র ‘বাংলারভূমি’ সরকারি পোর্টালের উপরেই ভরসা করুন। এখানেই সমস্ত তথ্য মিলবে। ভূমি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ‘জমির তথ্য’ নামে যে সরকারি অ্যাপটি আছে, সেটি আরও ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি’ করে তোলার কাজ চলছে। শীঘ্রই তা নতুন রূপে আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ