সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী, বেলদা: ধান কাটা গাড়ি ও ট্রাক্টরের চাকার কাদায় ভরে গিয়েছে গ্রামের ঢালাই রাস্তা। হাসপাতাল যাওয়ার পথে সেই কাদায় আটকে গিয়েছিল গাড়ি। এদিকে ওই গাড়ির ভিতরে প্রসবযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এক আসন্ন প্রসবা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আশাকর্মীর উপস্থিত বুদ্ধি ও তৎপরতায় গাড়ির মধ্যেই প্রসব করানো হল। বর্তমানে মা ও সদ্যোজাত বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সুস্থ রয়েছে। এই ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থানার পুটরুঙ্গি এলাকায়।
বুধবার ভোরের আলো সবে ফুটেছে। তখন প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন নারায়ণগড়ের পাকুড়সেনির বাসিন্দা সুব্রত সিংয়ের স্ত্রী সোনালি সিং। স্থানীয় আশাকর্মী মানসী পাত্রকে খবর দিলে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দেরি না করে তড়িঘড়ি গ্রামের একটি গাড়িতে করে পার্শ্ববর্তী মকরামপুর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। গ্রামের ঢালাই রাস্তা ধরে বাড়ি থেকে কিছুটা এগতেই পুটরুঙ্গি এলাকায় কাদায় আটকে যায় গাড়ির চাকা। কারণ, ধান কাটা গাড়ি ও ট্রাক্টরের চাকার কাদায় ভরে গিয়েছে গ্রামীণ রাস্তা। মঙ্গলবার সন্ধ্যের বৃষ্টিতে আরও পিছল হয়েছে সেই রাস্তা। চালক গাড়ি নিয়ে এগতে গেলে চাকা পিছলে গাড়ি খালে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এদিকে গাড়ির মধ্যে তখন প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সোনালিদেবী। উপায়ান্তর না দেখে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগান আশাকর্মী মানসীদেবী। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গাড়ির মধ্যেই প্রসব করাতে সফল হন তিনি।
এদিকে এক গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ততক্ষণে কোদাল নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে ফেলেছেন গাড়িচালক ও সোনালিদেবীর বাড়ির সদস্যরা। এরপর মা ও সন্তানকে নিয়ে তড়িঘড়ি বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে সুস্থ রয়েছে মা ও সদ্যোজাত। মানসীদেবী বলেন, হঠাৎ রাস্তায় গাড়ি আটকে গেলে কোন উপায়ান্তর না দেখে গাড়িতেই প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। প্রসবের কোনও প্রশিক্ষণ না থাকলেও অনেকবার হাসপাতালে সিস্টারদের এই কাজ করতে দেখেছি। আর সেই অভিজ্ঞতা এদিন খুব কাজে লেগেছে। ২০০৮ সাল থেকে কাজ করছি তবে এই প্রথমবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলাম।
সদ্যোজাতের বাবা সুব্রত সিং বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আশা দিদি না থাকলে কি যে হতো তা ভগবানই জানেন। যেভাবে আমার স্ত্রীর প্রসব করালেন তা জীবনে ভুলব না। ওনাকে কি বলে ধন্যবাদ জানাবো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। গাড়িচালক বিশ্বজিৎ রাউত বলেন, গ্রামের রাস্তায় যেভাবে ধান কাটা গাড়ি ও ট্রাক্টরের চাকার কাদা জমেছে প্রশাসন তা পরিষ্কার না করলে আগামী দিনে আবারও এরকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশংকর ষড়ঙ্গী বলেন, এমন পরিস্থিতি না হলেই ভালো হতো। তবে যেভাবে আশাকর্মী উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে দায়িত্ব নিয়ে প্রসব করিয়ে তাদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তা প্রশংসাযোগ্য।