


ইসলামাবাদ: নিজেদের পাতা ফাঁদে জড়াচ্ছে নিজেরাই। দু’দিন অন্তর জঙ্গি হামলার শিকার হতে হচ্ছে ‘দেউলিয়া’ পাকিস্তানকে। তা সত্ত্বেও কাশ্মীর ইস্যু ও ভারত বিরোধিতায় পাকিস্তান সরকার ও পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি একই সুরে কথা বলছে। পহেলগাঁও হামলার পর ‘অপারেশন সিন্দুরে’ কোমর ভেঙে যাওয়া সত্ত্বেও বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই ইসলামাবাদের। ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ পালনের অছিলায় ফের হুমকির সুর পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কণ্ঠে। এবার তাঁর প্ররোচনামূলক মন্তব্য, কাশ্মীর পাকিস্তানেরই অংশ হবে। একইভাবে হুমকির সুরে কথা বলেছেন লস্কর-ই-তোইবার শীর্ষ কমান্ডার সইদ আব্দুল রহমান নাকভিও। লস্কর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ ঘনিষ্ঠ নাকভির প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি, কাশ্মীরকে ‘স্বাধীন’ করে ছাড়ব। অখণ্ড ভারত খণ্ড খণ্ড হবে। হামলা চলবে ভারতজুড়ে।
কাশ্মীর ভারতের অখণ্ড অংশ হওয়া সত্ত্বেও ভূস্বর্গ নিয়ে ফের উসকানির চেষ্টায় ইসলামাবাদ। ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ পালনের ফিকিরে পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে জমায়েত থেকে ভারত বিরোধী মন্তব্য করা হয়েছে। সেই আবহেই এবার একেবার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার মুজ্ফরাবাদের সমাবেশ ও প্রদেশিক আইনসভায় তিনি বলেন, কাশ্মীরিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের। রাষ্ট্রংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব ও কাশ্মীরের মানুষের ইচ্ছার প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যমেই একমাত্র জম্মু-কাশ্মীর বিবাদের নিষ্পত্তি সম্ভব। পাকিস্তানের মানুষের তরফে কাশ্মীরের মানুষের প্রতি সংহতি প্রদর্শনেই আমি এখানে এসেছি। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নার মন্তব্য টেনেই শাহবাজের দাবি, কাশ্মীর হল পাকিস্তানের গলার শিরা। এরপরই কোনোরকম রাখঢাক না করে তাঁর দাবি, কাশ্মীর পাকিস্তানেরই অংশ হবে। এটাই আমাদের বিদেশনীতির ভিত্তি।
মুজফ্ফরাবাদে শাহবাজ শরিফের প্ররোচনামূলক মন্তব্যের দিনেই লাহোরের সমাবেশ থেকে ভারতকে সরাসরি হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে শীর্ষ লস্কর কমান্ডার নাকভিকে। একঝাঁক রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতিতেই হাফিজ সইদ ঘনিষ্ঠ এই জঙ্গিনেতার হুঁশিয়ারি, অখণ্ড ভারতকে খণ্ড খণ্ড করে দেব। আগ্রায় আগুন ধরাবো, দাউ দাউ করে জ্বলবে দাক্ষিণাত্য। কাঁপিয়ে দেব দিল্লিকেও। লাহোরের জমায়েতে নাকভি সহ বক্তাদের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে কাশ্মীরকে ‘মুক্ত’ করার অঙ্গীকারও।