নয়াদিল্লি: ভারতীয় সাহিত্যে অনন্য নজির গড়লেন লেখিকা-আইনজীবী বানু মুস্তাক। আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলের অন্যতম নামী ‘বুকার পুরস্কার’ জিতলেন তিনি। ছোটগল্প সংকলন ‘হার্ট ল্যাম্প’-এর জন্য কন্নড় ভাষার প্রথম লেখিকা হিসেবে এই সম্মানে ভূষিত হলেন বানু। তাঁর বইয়ের ইংরেজি সংস্করণের জন্য পুরস্কৃত হলেন দীপা ভাসতিও। উল্লেখ্য, এই প্রথম কোনও ছোটগল্পের সংকলন বুকার পুরস্কার পেল। বানুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, বুকার পুরস্কার জয়ের জন্য কন্নড় লেখিকা বানু মুস্তাককে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর লেখায় কন্নড়ভূমের সম্প্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রকৃত মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে। আশা করব তিনি এভাবেই কন্নড়ভূমের মূল আবেগকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবেন।
বানু মুস্তাকের মোট ১২টি গল্পের সংকলন। ১৯৯০ থেকে ২০২৩— প্রায় ৩৩ বছর ধরে গল্পগুলি লিখেছেন তিনি। মূলত দক্ষিণ ভারতে বাসরত মুসলিম মহিলাদের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের কথাই উঠে এসেছে সেই গল্পগুলিতে। চূড়ান্ত পর্যায়ে মোট ছ’টি বইয়ের মধ্যে থেকে ‘হার্ট ল্যাম্প’কে বেছে নেওয়া হয়। যে মজাদার, প্রাণবন্ত, সরস ভঙ্গিতে গল্পগুলি লেখা হয়েছে, তার জন্যই এই বইকে শেষ পর্যন্ত বেছে নেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলীর চেয়ার ম্যাক্স পোর্টার ‘হার্ট ল্যাম্প’-এর ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন, ইংরেজি পাঠকদের জন্য এটা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের টাটা মডার্নে বানুকে পুরস্কৃত করা হয়। মূল লেখিকা বানু মুস্তাক এবং অনুবাদিকা দীপা ভাসতি পুরস্কারের ৫০,০০০ পাউন্ড (ভারতীয় অঙ্কে প্রায় ৫৭ লক্ষ টাকা) সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।
বানুর জন্ম দক্ষিণ কর্ণাটকের একটি ছোট শহরে। মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকায় বানু সহ প্রায় সকলেই উর্দু মাধ্যমের ওই স্কুলে কোরান পড়তেন। কিন্তু সরকারি চাকুরে বাবা চেয়েছিলেন, মেয়ে আরও শিক্ষিত হোক। সেই কারণে আট বছর বয়সে বানুকে ভর্তি করে দেন একটি কনভেন্ট স্কুলে। সরকারি নির্দেশের কারণে ওই স্কুলের ভাষা ছিল কন্নড়। ধীরে ধীরে কন্নড় ভাষা রপ্ত করার পাশাপাশি লেখালেখিও শুরু করেন তিনি। ২৬ বছর বয়সে স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রথম তাঁর ছোটগল্প প্রকাশিত হয়।
বুকার জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বানু জানান, এটা শিহরণ জাগানো একটি মুহূর্ত। তবে এটা কোনও একজন ব্যক্তির একক সম্মান নয়, বরং একটি যৌথ প্রচেষ্টার সাফল্য। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যেন হাজার জোনাকি একসঙ্গে জ্বলে উঠে আকাশকে আলোয় ভরিয়ে দিয়েছে।’ প্রথম ভারতীয় অনুবাদিকা হিসেবে এই সম্মানে আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে প্রবল প্রশংসিত দীপা ভাসতিও।