নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষোভ-বিক্ষোভের পরিস্থিতি কাটিয়ে যখন ছন্দে ফেরার চেষ্টা চলছে, তখন ইন্ডিগোর বিমান সমস্যা দেখতে কলকাতায় ঘুরে গেলেন কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক। অচলাবস্থা চলেছে টানা সাতদিন। দিনভর হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল যাত্রীদের। তখন কিন্তু কেন্দ্রের আধিকারিকের দেখা মেলেনি। যাত্রীদের প্রশ্নমাখা বিস্ময়, আর সাতদিন বাদে তাঁদের হুঁশ ফিরল!
পাইলট ও বিমান কর্মী কম। এজন্য গত কয়েকদিনে ইন্ডিগোর শয়ে শয়ে বিমান বাতিল হয়েছে। আর কয়েকশো বিমান চলেছে ভীষণ দেরিতে। সব মিলিয়ে যাত্রীদের চূড়ান্ত হয়রানি হয়েছে। যাত্রীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ আছড়ে পড়েছিল বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর কাউন্টারে। টানা কয়েকদিনের ভয়াবহ দুর্ভোগ পর্বে কেন্দ্রের কোনও আধিকারিকের দেখা মেলেনি বলেই অভিযোগ। এমনকি, রবিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরে যাত্রীদের ক্ষোভের ছবি ব্যাপক মাত্রায় ধরা পড়েছিল। ঘটনাচক্রে রবিবার কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ইন্ডিগোর বিমান সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের দিকে আঙুল তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষমেশ পরিস্থিতি দেখতে মঙ্গলবার কেন্দ্রের এক প্রতিনিধি এলেন। বিশেষ করে সোমবার ইন্ডিগোর তরফে যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়েছে, বিমান পরিষেবাও ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে, সেদিনই এলেন কেন্দ্রীয় কর্তা! এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে আসেন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের ডিরেক্টর তানভি সুন্দরিয়াল। তিনি ঘণ্টাচারেক ছিলেন। বিমানবন্দরের আধিকারিক, সিআইএসএফ ও ইন্ডিগোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন তানভি। পরে ঘুরে দেখেন বিমান সংস্থার টিকিট কাউন্টার এবং সিকিউরিটি চেক পয়েন্ট। তিনি কথা বলেন যাত্রীদের সঙ্গেও।
ইন্ডিগো বিমান বিভ্রাটের জেরে কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এখন কী অবস্থা, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হয়েছে বলেই উঠে এসেছে দিল্লির শীর্ষ আধিকারিকের পর্যবেক্ষণে। মঙ্গলবার কলকাতা থেকে ইন্ডিগোর কোনও বিমান বাতিল হয়নি। তবে ওই সংস্থার কয়েকটি বিমান দেরিতে চলেছে এদিন। কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন, ইন্ডিগো বিমান সমস্যা যখন ভয়ংকর আকার নিয়েছিল, তখন কেন্দ্রের তরফে কোনও ফলপ্রসূ উদ্যোগ দেখা যায়নি কেন? -নিজস্ব চিত্র