Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী বহু পরীক্ষিত তৃণমূল কাউন্সিলার! চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার আদি-নব্য ব্রিগেড

পালাবদলের বাংলায় প্রথম পর্ব থেকেই মাথাচাড়া দিয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ। শীর্ষ নেতৃত্ব যতই রাশ টানার চেষ্টা করুক, নীচুতলা পর্যন্ত তার প্রভাব পৌঁছাচ্ছে না।

পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী বহু পরীক্ষিত তৃণমূল কাউন্সিলার! চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার আদি-নব্য ব্রিগেড
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পালাবদলের বাংলায় প্রথম পর্ব থেকেই মাথাচাড়া দিয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ। শীর্ষ নেতৃত্ব যতই রাশ টানার চেষ্টা করুক, নীচুতলা পর্যন্ত তার প্রভাব পৌঁছাচ্ছে না। তাই দিকে দিকে তোলাবাজি, হাঙ্গামার নালিশ তো ছিলই, পুরভোটের দামামা বাজতেই শুরু হয়েছে ‘টিকিট কাড়াকাড়ি’। প্রত্যেক এলাকায় অন্তত হাফ ডজন গোষ্ঠী। প্রত্যেকেই চাইছে, তাদের নেতা যেন কাউন্সিলারের টিকিট পান। ফল? বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ডভিত্তিক ‘প্রার্থী’র নাম বাছতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নেতৃত্বকে। তাই রাজনীতির মঞ্চে ভেসে উঠেছে সেই তৃণমূলের ‘পরীক্ষিত’ জনপ্রতিনিধিদের নাম। কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তো নাম শোনা যাচ্ছে ‘পরিচিত’ তৃণমূল কাউন্সিলারদেরই। কোথাও আবার প্রাক্তন মন্ত্রীও আলোচনায় ঘোরাফেরা করছেন। বিজেপির অন্দরমহলের যুক্তি, ওই জনপ্রতিনিধিদের ‘অভিজ্ঞতা’য় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দল-সংগঠন ও একইসঙ্গে পুর-প্রশসান মসৃণভাবে চালানো যাবে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৪৪টি থেকে বেড়ে ২০৯টি ওয়ার্ড হবে কলকাতায়। সেখানে প্রাথমিকভাবেই অন্তত খান ৩০ আসন (ওয়ার্ড) ‘পরীক্ষিত তৃণমূল’কে ছাড়তে চাইছেন রাজ্য বিজেপির মুখ তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক ‘বিদ্রোহী’ মহিলা তৃণমূল নেতার কথায়, ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা এলাকার একাধিক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। দক্ষিণ কলকাতা, বেহালার ক্ষেত্রে এক প্রবীণ পোড়খাওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলারকে ‘পরীক্ষিত তৃণমূল’ বাছার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তর কলকাতার ক্ষেত্রেও তৃণমূলের এক প্রাক্তন প্রবীণ নেতা ‘মধ্যস্থতা’র দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁরা ওয়ার্ডভিত্তিক একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলারের নাম জমাও দিয়েছেন। বিজেপির উত্তর কলকাতার এক প্রাক্তন কাউন্সিলারও মমতা তৃণমূলে থাকা ‘পরিচিত’দের ফোন ঘোরাচ্ছেন। বলছেন, বায়োডেটা জমা দিতে। সূত্রের খবর, সমস্ত ডেটা সোজা জমা পড়ছে নবান্নের উপর তলাতেই।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো থাকলেও তা বাড়তে চলেছে। ডিলিমিটেশন-নির্বাচনের পর নয়া বোর্ড তৈরি হলে সেটা বেড়ে ২১টি হওয়ার কথা। তেমনভাবেই বাড়তে চলেছে মেয়র পারিষদের সংখ্যাও। বর্তমানে মেয়র, ডেপুটি মেয়র ও ১২ জন মেয়র পারিষদ রয়েছেন। আরও ছ’জন মেয়র পারিষদ সদস্য বাড়তে পারে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে গেরুয়া টিকিটে জিতে এসে নয়া বিজেপি নির্বাচিত পুরবোর্ডেও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন একাধিক ‘অভিজ্ঞ’ প্রাক্তন-ঘাসফুল। অন্তত চার-পাঁচজন করে ‘পরীক্ষিত তৃণমূল’কে মেয়র পারিষদ ও বরো চেয়ারম্যান করা হতে পারে। 
এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের কথায়, ‘তালিকা দীর্ঘ। কতজন প্রাক্তন তৃণমূল বিজেপির টিকিটে পুরভোটে দাঁড়াবে, সংখ্যাটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, তৃণমূলের গত বোর্ডের একাধিক মুখ তালিকায় রয়েছে। গত বোর্ডের তিন মেয়র পারিষদও ফের ভোটে দাঁড়াতে পারেন বিজেপির টিকিটে। দক্ষিণ কলকাতার প্রাক্তন এক বিধায়কের মেয়েকেও টিকিট দেওয়া হতে পারে। রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রীও কাউন্সিলার ভোটে দাঁড়িয়ে গেলে অবাক হব না।’ আবার শোনা যাচ্ছে, কোনো কোনো ওয়ার্ডে প্রাক্তন তৃণমূলীদের পদ্ম-প্রতীক না দিয়ে, নির্দল হিসেবে দাঁড় করানোরও পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ