সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপের রাধাকুণ্ডের পুণ্যস্নানে ভিড় জমালেন ভিন রাজ্যের বহু মানুষ। উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের দূরদুরান্ত থেকে আগত মানুষরা তো ছিলেনই। সব মিলিয়ে দেড় লক্ষের আশপাশে পুণ্যার্থী সোমবার রাতে স্নান সারলেন রাধাকুণ্ডে। রাত জেগে এত বিপুল ভিড় সামলে অগ্নিপরীক্ষায় উতরে গেল নবদ্বীপ পুলিশ। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) দেবাশিস চট্টরাজ, নবদ্বীপ থানার আইসি কৃষ্ণেন্দু গোস্বামী প্রতিটি ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
প্রতিবছর পুণ্যস্নানে রাধাকুণ্ডে ভিড় হয়। তবে এবারে ভিন রাজ্য থেকে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ এসেছিলেন। নবদ্বীপের প্রতিটি গঙ্গার ঘাটেই মধ্যরাতে ভিড় হয়েছিল। অসম, ত্রিপুরা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে অনেক পুণ্যার্থী ট্রেন পথে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান নবদ্বীপ ধামে এসেছিলেন। বিপুল ভিড়ের আঁচ করে এদিন সন্ধ্যা থেকেই প্রতিটি স্নানের ঘাটে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার ছিল। স্নানের ঘাটগুলিতে বাঁশ এবং নেট দিয়ে ব্যারিকেড করা হয়। মহিলা পুলিশ কর্মীদের পাশাপাশি ছিলেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও। প্রতিটি ঘাটে পুরসভার পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য শিবির এবং পুণ্যার্থীদের সহায়তা ক্যাম্প করা হয়েছিল। স্থানীয় যুবকরাও পুণ্যার্থীদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। প্রতিটি ঘাটেই স্থানীয় কাউন্সিলারদের অনেক রাত পর্যন্ত দেখভাল করতে দেখা যায়। এমনকী পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাও প্রতিটি স্নানের ঘাটে অনেক রাত পর্যন্ত নজরদারি চালান। বেশি রাতে নবদ্বীপের বিভিন্ন মঠ মন্দির থেকে সাধুসন্ত বৈষ্ণব ও ভক্তরা কীর্তন সহকারে পুণ্যস্নানে আসেন। রাত বারোটার পর থেকে পুণ্যার্থীরা পুণ্যস্নান শুরু করেন। এদিন প্রায় রাত তিনটে পর্যন্ত অনেক মানুষকেই পুণ্যস্নান করতে দেখা যায়। মঙ্গলবার ভোরেও দেখা গেল শিলিগুড়ি, মালদহ, রায়গঞ্জের বহু পুণ্যার্থীকে সপরিবারে পুণ্যস্নান করতে। বৈষ্ণব ও পুণ্যার্থীদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই তিথিতে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয়। বহুলাষ্টমী এই তিথিতে মূলত বৃন্দাবনের রাধাকুণ্ডে পুণ্যস্নান হয়। বৈষ্ণবতীর্থ চৈতন্যভুমি নবদ্বীপে এই স্নান ‘গৌর -গঙ্গা স্নান’ নামেই বেশি পরিচিত।
এদিন রানির ঘাট, শ্রীবাস অঙ্গন ঘাট, প্রাচীন মায়াপুর জন্মস্থান ঘাট, দেয়ারা পাড়া এবং মণিপুর ঘাট সহ সব মিলিয়ে দেড় লক্ষের আশপাশে মানুষ পুণ্যস্নান করেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
শিলিগুড়ি মালবাজারের বাসিন্দা আন্নি সূত্রধর, শিখা বসাকরা জানান, ট্রেনে করে আমরা তেইশ জন এই পুণ্যস্নানে এসেছি। একই কথা জানালেন মালদহ গাজলের বাসিন্দা প্রদীপ সরকার। তিনি বলেন, ছোট দুই ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে এই স্নানের জন্য এসেছি। সোমবার রাতে ট্রেনে নবদ্বীপ ধামে নেমেছি। রানাঘাট আইসতলা থেকে ছেলে বিশ্বজিতের সঙ্গে এসেছিলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধা মহামায়া দাস। তাঁর কথায়, বৃন্দাবনের রাধাকুণ্ডে যাওয়া হয়নি। তাই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর স্থানে এসেছি। গঙ্গার ঘাটের কাছে রাধারানির মন্দিরের নাটমন্দির চত্বরে ছিলাম। রাত ১টার সময়ে ছেলে-বউমার হাত ধরে ভালো ভাবে স্নান করতে পেরেছি। রায়গঞ্জ থেকে স্ত্রী শীলা সরকার ও নাতি সায়ন সাহাকে নিয়ে চৈতন্যধাম নবদ্বীপে পুণ্যস্নানে এসেছিলেন পানু সরকার। তিনি জানান, মঙ্গলবার ভোরে রাধিকাপুর এক্সপ্রেস করে নবদ্বীপ ধামে নেমেছি। স্নান হয়ে গিয়েছে। এখন সবাই মিলে মন্দির দর্শনে
যাচ্ছি। -নিজস্ব চিত্র