নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: টানা বৃষ্টিতে পাড় উপচে কংসাবতীর জল ভাসিয়ে দিয়েছে চাষের জমি, ভিটেমাটি। মেদিনীপুর সদর ব্লকের একাধিক গ্রামের মানুষের সেই দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে কংসাবতী নদী তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ সংস্কার ও নতুন বাঁধ তৈরির ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হল। নতুন বাঁধ তৈরি ও সংস্কার হলে ভাঙন অনেকটাই কমবে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই প্রকল্পে প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ হবে। লাগাতার বৃষ্টিতে নদীর জল অনেকটাই বেড়েছে। জলে স্রোতও রয়েছে। তাই বৃষ্টি কমলে ও নদীর জল স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু হবে। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, মেদিনীপুর সদর ব্লকের নদী তীরবর্তী এলাকায় জমি উর্বর হওয়ায় প্রচুর চাষ হয়। তাই নদী ভাঙনে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে চাষের জমির। এবছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় নদী ভাঙন বেড়েছে। এভাবে চললে একাধিক গ্রাম নদীগর্ভে চলে যাবে।
জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর সদর ব্লকের নদী ভাঙন নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে উদ্যোগ নেন স্থানীয় বিধায়ক সুজয় হাজরা ও সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। ইতিমধ্যেই তাঁরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছেন। মানসবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই সমস্ত কাজ হচ্ছে। একজন মানুষও যাতে সমস্যায় না থাকেন সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। সুজয়বাবু বলেন, নদীতে জল বেশি রয়েছে। এই সময় বাঁধ সংস্কার করলে লাভ হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কাজ শুরু হবে। এটি অনেক বড় প্রজেক্ট। এই এলাকার সমস্যার কথা বিধানসভাতেও বলেছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া, মণিদহ, কনকাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে কংসাবতী। বর্তমানে এই পঞ্চায়েতের মানুষ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, পানীয় জলের প্রকল্প হয়েছে। এতে উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে এই গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির মূল সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙনের জেরে শতাধিক মানুষ ঘরছাড়া। জানা গিয়েছে, শুধু চাঁদড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপরডাঙ্গা এলাকায় প্রায় হাজার বিঘা জমির চলে গিয়েছে নদীগর্ভে। এবছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় জুন মাস থেকেই ভাঙন শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত চাঁদড়া, মণিদহ এলাকায় ২০০ বিঘার বেশি জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকার বেশি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গত শীতেই নদীর ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। এদিন উত্তরডাঙ্গা এলাকায় নদীর ধারে এসেছিলেন শুভম দোলই, খোকন ঘোষ। তাঁরা বলেন, এই নদী মানুষকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু নদীর জন্য খুবই সমস্যায় পড়েছেন মানুষ। বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন। আশার আলো দেখছি। এই কাজ হলে খুবই উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ।-নিজস্ব চিত্র