Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর আসার আনন্দে দেদার বাজি ফুলকির আগুনে পুড়ল গরিবের ঘর

মঙ্গলবার রাতে বিয়েবাড়ির আনন্দে মেতেছিলেন দাসপুরের বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

বর আসার আনন্দে দেদার বাজি ফুলকির আগুনে পুড়ল গরিবের ঘর
  • ১৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: মঙ্গলবার রাতে বিয়েবাড়ির আনন্দে মেতেছিলেন দাসপুরের বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দারা। বাজির রঙিন আলোয় সারা আকাশ আলোকিত হয়। কিন্তু সেই বাজির ফুলকিতে প্রতিবেশীর দোতলা বাড়ি ভস্মীভূত হল। আচমকা আগুন লাগায় ওই বাড়ি থেকে কোনওকিছু বের করতে পারেননি পরিবারের লোকজন। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা তাপস দোলইয়ের মেয়ের বিয়ে ছিল। গোটা বাড়ি আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়। রাত ৮টা নাগাদ বর আসতেই শুরু হয় বাজি পোড়ানো। সেই বাজির আগুনে আচমকা তাপসবাবুর প্রতিবেশী মনোজ রায়ের খড়ের ছাউনি দেওয়া দোতলা বাড়িতে আগুন ধরে যায়। দ্রুত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছয়। বিশাল পুলিস বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন দাসপুর থানার ওসি অঞ্জনী তেওয়ারি। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন আয়ত্তে আসে। ততক্ষণে বাড়িটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই থমকে যায়।
মনোজবাবু বলেন, আমার সব শেষ। আচমকা আগুন লাগায় আমরা বাড়ি থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। মেয়েদের পড়াশোনার নথিপত্র থেকে শুরু করে দলিলপত্র কিছুই বের করতে পারিনি। শুধু পরনের পোশাকটুকুই সম্বল। দমকল বাহিনীর কর্মীরাও জানিয়েছেন, বাড়ির কোনওকিছুরই আর অস্তিত্ব নেই। মাটির বাড়িটি আর রাখা ঠিক হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মনোজবাবু আরও বলেন, আমার বাড়ির খড়ের ছাউনি। আমি ওদের বারবার বাজি পোড়াতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু কেউ শোনেননি। ওদের আনন্দের বাজির ফুলকি আমার বাড়িতে চালে পড়ে। তাতে আমি আশ্রয়হীন হলাম। মেয়ের বিয়ের আনন্দের দিনে এমন ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন তাপসবাবুও। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি হবে ভাবতেই পারিনি। বাসুদেবপুর পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত হড় ওই পরিবারকে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ