Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কিশোরীদের ফাঁদে ফেলার ছক, বাংলায় রাজস্থানের ধনীদের এজেন্ট! সব্জি বিক্রেতা দম্পতিকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল সিবিআই

একজন কিশোরীকে পটিয়ে পাটিয়ে জালে তুলতে পারলেই পকেটে ঢোকে ২০-২৫ হাজার টাকা। সেই কিশোরী একটু বেশি সুন্দরী হলে প্রাপ্তির অঙ্ক খানিক বাড়তেও পারে।

কিশোরীদের ফাঁদে ফেলার ছক, বাংলায় রাজস্থানের ধনীদের এজেন্ট! সব্জি বিক্রেতা দম্পতিকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল সিবিআই
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও আসানসোল: একজন কিশোরীকে পটিয়ে পাটিয়ে জালে তুলতে পারলেই পকেটে ঢোকে ২০-২৫ হাজার টাকা। সেই কিশোরী একটু বেশি সুন্দরী হলে প্রাপ্তির অঙ্ক খানিক বাড়তেও পারে। তবে, গড়পরতা ২৫ হাজারেই সীমাবদ্ধ। গরিব মানুষের কাছে এটাই অনেক। তাদের এই আর্থিক দুর্বলতাকে সুকৌশলে কাজে লাগাচ্ছে রাজস্থানের ‘শেঠ’রা। মরুরাজ্যে যাঁদের বেশ আর্থিক প্রতিপত্তি রয়েছে, মোটামুটি যাঁরা ধনী, তাঁরা ‘শেঠ’ বা ‘শেঠজি’ বলে সমধিক পরিচিত। এই ‘শেঠ’দেরই মূল টার্গেট বাংলার কিশোরীদের। কমিশনের বিনিময়ে এজেন্ট নিয়োগ করছে। তার আগে কিশোরীদের ফাঁদে ফেলার কলা-কৌশল শেখানো হচ্ছে। এভাবে বাংলায় বহু এজেন্ট ছড়িয়ে রেখেছে রাজস্থানের ‘শেঠ’রা। সব্জি বিক্রেতা দম্পতিকে জেরা এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। জানা গিয়েছে, ওই ‘শেঠ’রা একজন কিশোরীর উপর কিছুদিন যৌন নিপীড়ন চালানোর পর মোটা টাকার বিনিময়ে তাকে বিক্রি করে দেয়। আবার নতুন কিশোরীকে ধরে আনার নির্দেশ দেয় এজেন্টকে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে একটা চক্র কাজ করে চলেছে বাংলায়। 

Advertisement

দু’মাস আগে গলসি থানার পুলিস মেমারি থেকে এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তে উঠে আসে, ওই যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় জাল পেতেছিল।  গায়ে পড়ে অপরিচিত কিশোরীদের সঙ্গে ভাব জমাত। দামি গিফট দিত। তারপর সুযোগ বুঝে ভালো কাজ পাইয়ে দেওয়ার অফার দিত। সেই টোপ গিললেই কেল্লাফতে। কিশোরীকে পাঠিয়ে দেওয়া হতো রাজস্থানে। রবিবার আসানসোল উত্তর থানার ঝিংরি মহল্লার বালু ময়দানের কাছে থেকে দুই এজেন্টকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তাদের নাম বিলাল খান ও রানু খাতুন ওরফে রানি। দু’জনে স্বামী-স্ত্রী। তাদের জেরা করে তাজ্জব তদন্তকারীরা।  
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘রাজস্থানী শেঠ’রা মোটা টাকার বিনিময়ে কিশোরীদের কিনে নেয়। তবে বেশি দিন তাদের একজন কিশোরীকে পছন্দ হয় না। বিক্রি করে দেয় অন্যত্র। রায়নার নাবালিকাও দু’বার বিক্রি হয়েছিল। এ রাজ্যের সব জেলাতেই ‘শেঠ’রা এজেন্ট ছড়িয়ে রেখেছে। বিলাল-রানু দীর্ঘদিন ধরে এজেন্টের কাজ করছে। রাজস্থানে হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিল উদ্ধার হওয়া এক নাবালিকা। সে বলছিল, বাংলার বহু মেয়ে রাজস্থানে রয়েছে। বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ঘরে ফেরার আশা ছেড়ে দিয়েছে। কেউ কেউ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। এজেন্টরা মূলত গরিব বাড়ির মেয়েদের টার্গেট করে। বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর নানা অত্যাচারের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে লাগামহীন যৌন নির্যাতন চলে। প্রতিবাদ করলেই মারধর করা হয়। ওদের ম঩ধ্যে কোনও মানবিকতা নেই। ঠিক মতো খেতেও দেওয়া হয় না। পাড়ার লোকজনদের সঙ্গেও কথা বলার অধিকার থাকে না। দিনভর ঘরের মধ্যেই থাকতে হয়। কখনও পাড়ার কারও বাড়িতে ঘুরতে গেলে শেঠদের লোকজন সঙ্গে যায়। কার সঙ্গে কি কথা হচ্ছে, সব কিছুই তারা নজরে রাখে। 
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পুরো চক্রের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত আসানসোল থেকে ধৃত রানি। মূলত কিশোরীদের মগজ ধোলা‌ই঩য়ের কাজ সেই করত। বিলালও এই চক্রের অন্যতম মাথা। রায়নার একটি মেয়েকে পাচার করার মামলা আদালতের নির্দেশে সিবিআ‌ই তদন্ত শুরু করেছে। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে রানির নাম। সিবিআইয়ের দাবি, রায়নার মেয়েটিকে রাজস্থানে পাচার করার আগে রানি নিজের বাড়িতে বেহুঁশ করে রেখেছিল। একাধিক মেয়ের সঙ্গেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে গুণধর দম্পতি। তাদের সঙ্গেই সরাসরি যোগ রয়েছে রাজস্থানের নারী পাচারকারী গ্যাংয়ের। আসানসোলেও একাধিক মেয়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েক বছর ধরে সেই সব মেয়েদের কোনও হদিশ নেই। সিবিআই সেই সব তথ্যও সংগ্রহ করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ