Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৫০ বছর ধরে মহিষাদলের সিদ্ধেশ্বরী মায়ের চরণতলে রয়েছে কাঠের খণ্ড

দৈববলে একটি কাঠের খণ্ড এসে পৌঁছেছিল পরিবারের কাছে। তখন থেকেই দেবীর স্বপ্নাদেশে ওই পরিবারে পুজো শুরু হয়। আশ্চর্যের বিষয় দশকের পর দশক ধরে ওই কাঠের খণ্ডটি মা কালীর চরণতলে অবিকৃত অবস্থাতেই রয়েছে।

২৫০ বছর ধরে মহিষাদলের সিদ্ধেশ্বরী মায়ের চরণতলে রয়েছে কাঠের খণ্ড
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: দৈববলে একটি কাঠের খণ্ড এসে পৌঁছেছিল পরিবারের কাছে। তখন থেকেই দেবীর স্বপ্নাদেশে ওই পরিবারে পুজো শুরু হয়। আশ্চর্যের বিষয় দশকের পর দশক ধরে ওই কাঠের খণ্ডটি মা কালীর চরণতলে অবিকৃত অবস্থাতেই রয়েছে। সেই কাঠের খণ্ড কখনও বিসর্জন দেওয়া হয় না। এই কাহিনি মহিষাদলের কিসমত নাইকুণ্ডি পঞ্চায়েতের সুন্দরা গ্রামে চক্রবর্তী পরিবারের। প্রায় আড়াইশো বছর ধরে সিদ্ধেশ্বরী কালী মাতার পুজো করে আসছে চক্রবর্তী পরিবার। পুজো উপলক্ষ্যে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও মাতোয়ারা হন। ওই কাঠের খণ্ডটি এবং পুজো ঘিরে নানা মিথ ও বিশ্বাস রয়েছে স্থানীয় মানুষের। 

Advertisement

সিদ্ধেশ্বরী মায়ের পুজোর জন্য ১৮-২০ জন সেবাইত রয়েছেন। মহিষাদল ব্লক শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সুন্দরা গাছগাছালির ছায়া ঘেরা শান্ত  গ্রাম। প্রায় আড়াইশো বছর আগে উত্তরপ্রদেশের কনৌজ  থেকে কমলাকান্ত টেয়্যা নামে দরিদ্র এক নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ সুন্দরা গ্রামে এসে বাস করতে থাকেন। কমলাকান্তের বাবার নাম ছিল ব্রজেশ্বর। কমলাকান্তের তিন ছেলে পিরীতরাম, শ্যামাপ্রসাদ ও গয়ারাম। নিদারুণ দারিদ্র্য ছিল কমলাকান্তের সংসারে। মহিষাদল রাজবাড়িতে ঠাকুর সাজানোর (বেশকারী) কাজ করে কোনওরকমে সংসার চলত। একবার মা কালীর পুজো করার ইচ্ছে হয় শ্যামাপ্রসাদের। কিন্তু আর্থিক সঙ্গতি নেই। এইসময় একদিন খুব ভোরে আচমকাই স্থানীয় এক কাঠমিস্ত্রির ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে যায় সবার। দরজা খুলতে না খুলতেই কাঠমিস্ত্রি তিরস্কার করে বলতে থাকেন, তোমাদের লজ্জা করে না, নিজেরা ঘুমিয়ে আছ, আর একটা বাচ্চা মেয়েকে কাঠ নিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে কালীমূর্তি গড়ার জন্য? তা, মা কালীর মুখ কীরকম হবে? মায়ের রং কী হবে? সেসব তো কিছু বলোনি! এই ঘটনায় পরিবারের সবাই হতবাক হয়ে যান! এরপরই সবাই ওই কারিগরকে কালীপ্রতিমা তৈরি করতে বলেন ও শুরু হয় পুজোর তোড়জোড়। সেই কাঠের তক্তায় খড়ের মেড় বেঁধে মাটির প্রলেপ দিয়ে মূর্তি গড়ে শুরু হয় পুজো। কিন্তু অলৌকিক ঘটনা ঘটে একদিন বাদে প্রতিমা বিসর্জনের সময়। ওই তক্তা কোনওমতেই ডুবতে চায় না। জোর করে তা ডোবাতে গিয়ে অঘটনও ঘটে। সেই থেকে ওই কাঠের খণ্ড আর বিসর্জন দেওয়া হয়নি। 
বর্তমান সেবাইত সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে ধ্যানমন্ত্রেই মায়ের পূজো হয়। মায়ের আশীর্বাদে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। কত বদ্ধ উন্মাদ যে মায়ের আশীর্বাদে ভাল হয়ে গিয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। 
মহিষাদলের বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী বলেন, সুন্দরা গ্রামের সিদ্ধেশ্বরী কালীমা খুবই জাগ্রত। কালীপুজোর দিন ঘটা করে চক্রবর্তী পরিবারে পুজো হয়। পরদিন বহু মানুষ প্রসাদ পান। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ