সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: এবার হাওড়া ব্রিজের অনুকরণে পুজো মণ্ডপ গড়ে দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে চলেছে দুর্গাপুরের পলাশডিহা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। ওই সর্বজনীন দুর্গাপুজো পরিচালনা করে পলাশডিহা তরুণ সঙ্ঘ। টিস্যু পেপার ও রংবেরঙের কাগজ দিয়ে দেবী দুর্গার মূর্তি তৈরি করছেন পুজো কমিটির সদস্যরাই। উদ্যেক্তাদের দাবি, ব্রিটিশ আমলের তৈরি হাওড়া ব্রিজের নাম বহু মানুষ শুনেছেন, ছবিও দেখেছেন। কিন্তু, চাক্ষুষ করেননি এমন অনেকেই আছেন। তাই এবার হাওড়া ব্রিজকে থিমের মণ্ডপে তুলে ধরা হচ্ছে।
এই পুজো কমিটির অভিনব থিম ও প্রতিমা দর্শনার্থীদের প্রতিবার নজর কাড়ে। এর আগে সুতলি, উল, মোবাইল কভার, গাছের মূল সহ নানা সামগ্রী দিয়ে তৈরি প্রতিমা দর্শনার্থীরা পছন্দ করেছিলেন। এবার প্রায় তিন মাস ধরে আটজন ক্লাব সদস্য প্রতিমা তৈরি করছেন। বাঁশ, কাগজের মণ্ড ও টিস্যু পেপার সহ রংবেরঙের কাগজ দিয়ে প্রতিমা গড়ে তোলা হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব প্রতিমা গড়ে তাঁরা প্রকৃতি দূষণ মুক্ত করার বার্তা দিতে চলেছেন। অসুরকে দূষিত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, অসুর প্লাস্টিকের দূষণই জীবজগতের অনুকূল পরিবেশ ধীরে ধীরে শেষ হতে চলেছে। তাই পচনশীল ও পরিবেশ বান্ধব সামগ্রী দিয়ে তাদের প্রতিমা গড়ে উঠছে।
পুজো কমিটির সম্পাদক সন্তোষ সামন্ত বলেন, চলতি বছরে পুজো ৪৯ তম বর্ষে পদার্পণ করছে। ৩২ বছর ধরে আমরা থিমের পুজো করে আসছি। এবার হাওড়া ব্রিজ গড়ে তোলা হচ্ছে। যা প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা ও ৬০ ফুট উচ্চতার বিশাল মণ্ডপ। পুজোর বাজেট প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। গত বছর অ্যামেরিকার স্ট্যাচু অব লিবার্টি’র আদলে থিম ছিল। প্রায় ১০৫ ফুট উচ্চতার ওই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছিল। খাদ্য শস্য দিয়ে কমিটির ওই আটজন সদস্যই প্রতিমা গড়েছিলেন। আমাদের পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। নবমীতে খিচুড়ি ভোগ বিলি হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই গ্রামীণ মেলা বসে। এবারও প্রতিমা ও মণ্ডপ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলে আমরা আশাবাদী।-নিজস্ব চিত্র