সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরে প্রতি বছরই বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে ঘূর্ণির তরুণ সঙ্ঘের পুজো মণ্ডপ। এ বছর তাদের পুজো ৭৪ বছরে পদার্পণ করছে। এবার তাদের থিম থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যময় ‘গোল্ডেন বৌদ্ধ মন্দির’। মণ্ডপের বাইরে সোনালি রঙের ব্যবহার, খোদাই করা কারুকাজ এবং মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী তুলে ধরতে শিল্পীরা দিনরাত কাজ করছেন। মণ্ডপের ভিতরে শান্ত পরিবেশ, মানানসই আলোকসজ্জা ও সুরেলা সঙ্গীতে তৈরি হবে এক আধ্যাত্মিক আবহ। সব মিলিয়ে, প্রাক প্লাটিনাম জুবিলি বর্ষের আগে তরুণ সঙ্ঘের এই থিমের মণ্ডপ দর্শনার্থীরা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
ক্লাবের সদস্যরা জানালেন, এখন থেকেই অনেকে মণ্ডপ তৈরির কাজ দেখতে আসছেন। এবছর শুধু কৃষ্ণনগর নয় জেলার প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে এই পুজো মণ্ডপ। মহালয়ার দিন থেকেই আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কর্মসূচি শুরু হবে। কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা নেই আমাদের। প্রতিবছর শুধু বিগত বছরের থেকে ছাপিয়ে যেতে চাই। ২০২৬ সালে প্লাটিনাম জুবিলি বর্ষের ভাবনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী বছর শুধু বড় পুজো নয়, বিভিন্ন সামাজিক কাজ করা হবে।
ক্লাবের কোষাধক্ষ্য মলয়কুমার দাস বলেন, কৃষ্ণনগর শহরে প্রধান উৎসব জগদ্ধাত্রী পুজো। কিন্তু, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। আমাদের এবছরের বাজেট ১৮ লাখ টাকা। যার বেশিরভাগটাই ক্লাবের সদস্যরা দিয়ে থাকেন। বাকি টাকা পাড়া ও বিজ্ঞাপন থেকে আসে। পঞ্চমীর দিন পুজোর উদ্বোধন হবে। পাড়ার মহিলারা এই পুজোয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অষ্টমীর দিন পাড়ার সকলকে ভোগ বিলি করা হয়। পুজো মানেই মিলন উৎসব। তাই সকলকে আমাদের মণ্ডপে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
ক্লাব সম্পাদক অজয় গড়াই বলেন, মণ্ডপে কড়া নজরদারি থাকবে। পুলিশ প্রশাসনও আমাদের সাহায্য করে। থাকছে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি। গত বছর কার্নিভাল হয়েছে, এবারও অংশগ্রহণ করব। মণ্ডপ শিল্পী বিধান গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিদেশি স্থাপত্য তুলে ধরা ভীষণ চ্যালেঞ্জের কাজ। তবে তরুণ সঙ্ঘের উৎসাহ ও পরিকল্পনা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। প্রায় কুড়ি বছর ধরে আমি এই ক্লাবের মণ্ডপ তৈরির কাজ করছি।