নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কাঁথির তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলারের কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ। অথচ সেই কাউন্সিলার, তাঁর স্ত্রী এবং ভাই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা(আরবান) প্রকল্পে মাথাপিছু সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পেয়েছেন। নিয়ম অমান্য করে একই পরিবারের তিনজন টাকা পেয়েছেন। বাড়ি বানানোর সময় এই প্রকল্পের ‘মডেল’ মানা হয়নি। এনিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল কাঁথি পুরসভায়। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হতেই পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। দেখা যায়, একই পরিবারের তিন সদস্যের নামে সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরির টাকা আসার পর রীতিমতো রাজপ্রাসাদ বানানো হয়েছে। এনিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই মঙ্গলবার সস্ত্রীক তৃণমূল কাউন্সিলার সন্দীপ জানা সুদ সহ প্রকল্পের টাকা ফেরত দেওয়ার আবেদন করেছেন। ওই ঘটনায় কাঁথি শহরজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। পুরসভা কর্তৃপক্ষ এনিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি বলেন, ২০১৮-’১৯আর্থিক বছরে আমাদের দলেরই কাউন্সিলার এবং তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা(আরবান) স্কিমের সুবিধা পেয়েছেন। ওই স্কিমের মডেল অনুযায়ী বাড়ি হয়নি। বাড়িতে কোথাও প্রকল্পের বোর্ড লাগানো নেই। এনিয়ে অভিযোগ আসতেই তদন্ত করা হয়। তারপর কাউন্সিলার ও তাঁর স্ত্রী টাকা ফেরত দেওয়ার আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, কাঁথি পুরসভার ২১নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার সন্দীপ। ২০১৮-’১৯আর্থিক বছরে সন্দীপ, তাঁর স্ত্রী মণি জানা এবং ভাই সঞ্জীব জানা এই প্রকল্পে মাথাপিছু প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পান। শহরের জালালখাঁবাড় এলাকায় সন্দীপবাবুর বাড়ি। সরকারি প্রকল্পে ওই টাকা পাওয়ার পর তিনি নিজের পুরনো বাড়ির ভোল বদলে কার্যত রাজপ্রসাদ বানিয়ে ফেলেন। চোখ আটকে যাওয়ার মতো বাড়ি বানাতে বিপুল টাকা খরচ হয়েছে। সন্ধ্যার পর ওই বাড়ির ভিতর বাহারি আলোর রোশনাই ছড়িয়ে পড়ে। চোখজুড়ানো একাধিক ব্যালকনি। ওই বাড়ি দেখে পথচারীদের চোখ আটকে যায়।
পুরসভা এলাকায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষজনকে মাথার উপর ছাদ দিতেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা(আরবান) প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়। পরিবারপিছু একজন এই সুবিধা পান। অথচ, নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই তৃণমূল নেতার পরিবারের একসঙ্গে তিনজন প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। সেই টাকায় অট্টালিকা বানিয়েছেন। অথচ, শহর কিংবা গ্রামীণ এলাকায় আবাস যোজনায় বাড়ি বানানোর সময় নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করতে হয়। সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে।
কাউন্সিলারের ওই বাড়ি নিয়ে কাঁথি পুরসভায় অভিযোগ আসে। তার ভিত্তিতে পুরসভার পক্ষ থেকে একটি কমিটি ওই বাড়ি ভিজিটে যায়। তাতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নিয়ম না মেনে রাজপ্রাসাদ বানিয়েছেন তৃণমূল নেতা। পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়ম ভেঙে প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে। জলঘোলা শুরু হতেই বিপাকে পড়েন কাউন্সিলার। মঙ্গলবার সন্দীপবাবু এবং তাঁর স্ত্রী দু’জনেই পুরসভায় গিয়ে ওই প্রকল্পে পাওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ১৫দিনের মধ্যে পুরসভাকে এজন্য উদ্যোগী হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
সন্দীপবাবু বলেন, ২০০৮সালে আমি বাড়ি বানাই। তারপর ২০১৮-’১৯ সালে বাড়িটি নতুনভাবে সাজিয়ে তুলি। আবাস যোজনার সুবিধা নেওয়ার সময় আমি কাউন্সিলার ছিলাম না। ২০২২সালে আমি কাউন্সিলার হয়েছি। আমি এবং আমার স্ত্রী দু’জনেই সুদ সহ প্রকল্পের সমস্ত টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরসভার চেয়ারম্যান এবং এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে আবেদন জানিয়েছি।