Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাসুরের ছেলেকে ভাত খেতে দিয়ে জুটল মার, মৃত্যু নাবালক পড়ুয়ারও

ষষ্ঠীর দুপুর। বাড়িতে খাওয়ার আয়োজন চলছে। এমন সময় বড় ভাসুরের ছেলে এসে বলে, ‘আমিও ভাত খাব।’ পূর্ব গোলমালের কারণে প্রথমে খেতে দিতে রাজি হননি ভাইয়ের স্ত্রী।

ভাসুরের ছেলেকে ভাত খেতে দিয়ে জুটল মার, মৃত্যু নাবালক পড়ুয়ারও
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া : ষষ্ঠীর দুপুর। বাড়িতে খাওয়ার আয়োজন চলছে। এমন সময় বড় ভাসুরের ছেলে এসে বলে, ‘আমিও ভাত খাব।’ পূর্ব গোলমালের কারণে প্রথমে খেতে দিতে রাজি হননি ভাইয়ের স্ত্রী। পরে নাছোড় ওই যুবককে খেতে দেন। তা নিয়েই বড় ভাসুরের পরিবারের লোকেদের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া। লাঠিসোটা নিয়ে মারধর। অকালে ঝরে গলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের প্রাণ। মাথা ফেটেছে ওই ছাত্রের মায়ের ও দিদির। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলকোটের ঝিলুতে। খুনের অভিযোগে পুলিশ ধরেছে তিনজনকে। 

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম ইসরাইল শেখ (১২) ৷ ঝিলু গ্রামের দক্ষিনপাড়াতে তার বাড়ি৷  সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল সে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত টপেস শেখ সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ষষ্ঠীর দুপুরে মৃত পড়ুয়ার মা রিজিয়া বিবির বাড়িতে আসেন নয়ন শেখ। নয়ন সম্পর্কে রিজিয়া বিবির বড় ভাসুরের ছেলে। তারা আলাদা বাড়িতে থাকে। নয়ন দুপুর বেলায় ভাত খেতে চায় রিজিয়া বিবির কাছে। প্রথমে দিতে রাজি ছিলেন না রিজিয়া বিবি। কারণ, তাঁর আশঙ্কা ছিল নয়নের পরিবার এ নিয়ে অশান্তি পাকাতে পারে। পরে নয়নের উপর্যুপরি অনুরোধে রিজিয়া বিবি রাজি হন খেতে দিতে। কিছু পরেই তাঁর আশঙ্কাই সত্যি হয়। নয়ন শেখের শ্যালক টপেস তার বোন নয়নের স্ত্রী হাসনা বিবি রেগে আগুন হয়ে যায়। কেন নয়নকে ভাত খেতে দেওয়া হবে? এই  প্রশ্ন তুলে টপেস, তার স্ত্রী গনে বিবি, বোন হাসনা বিবি, হুরি বিবিরা বাঁশ, গাছের ডাল নিয়ে রিজিয়া বিবির বাড়িতে চড়াও হয়৷ প্রথমে তারা রিজিয়া বিবির মাথা ফাটিয়ে দেয়৷ মাকে মারতে দেখে আটকাতে যায় মেয়ে নাসিফা খাতুন৷ তাকেও মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়৷ এরপর বাড়ির এক কোনে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট ইসরাইল শেখ৷ তাকেও গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়৷ মাথাও ফাটিয়ে দেওয়া হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে৷ সঙ্গে সঙ্গেই তাকে নতুনহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ বিকেলে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়৷ শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়৷ ওইদিন সেখানে গভীর রাতে মারা যায় ইসরাইল৷ তার দিদি নাসিফা মঙ্গলকোট থানায় চারজনের নামে লিখিত অভিযোগ জানান৷
ইসরাইলরা পাঁচ বোন ও চার ভাই৷ বাবা ইলিয়াস শেখ সাত বছর আগে মারা যান৷ মা রিজিয়া বিবি খুব কষ্ট করেই সংসার চালাচ্ছিলেন৷ রিজিয়া বিবি বলেন, নয়ন শেখের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বনিবনা হয় না৷ তাই মাঝেমধ্যেই তিনি আমাদের বাড়িতে এসে ভাত চেয়ে খান৷ আমরা দুপুর বেলাতে এক মুঠো ভাত দিয়েছি৷ এটাই আমাদের অপরাধ৷ তার জন্য আমার কোলের ছেলেকে ওরা কেড়ে নিল৷ ওদের কঠিন শাস্তি চাই৷  এদিকে, এই ঘটনার পর এখনও এলাকা থমথমে রয়েছে। পুলিশ মাঝেমধ্যেই নজরদারি চালাচ্ছে৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ