সংবাদদাতা, কালনা: দুর্গাপুজোর ছুটির আনন্দে পূর্বস্থলী-১ ব্লক বিএলএলআরও অফিসের কর্মী ও মুহুরিরা পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। ভোজের বিরিয়ানি খেয়ে এক মুহুরির মৃত্যু হয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক অফিসারও অসুস্থ হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতের নাম সুমন্ত মল্লিক(৩৪)। বাড়ি নাদনঘাট থানার মশাগড়িয়া এলাকায়। তাঁর পরিবার পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগ তুলেছে। নাদনঘাট থানায় কয়েকজনের নামে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। এদিন ফুড সেফটি টিম ও কালনার এসডিপিও সরেজমিনে তদন্তে যায়। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিরিয়ানিতে লুকিয়ে রহস্য? কী ছিল তাতে? বাঙালির হালফিলের প্রিয় খাবার বিরিয়ানির হাঁড়ি পুলিসের স্ক্যানারে। খাবারের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এখনও আসেনি। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিএলএলআরও দপ্তরে পুজোর ছুটি পড়েছে। সেই আনন্দে ছুটির পর বিকেলে অফিসের কর্মী ও মুহুরিরা ভূরিভোজের আয়োজন করেন। মেনুতে ছিল বিরিয়ানি। অনেকে অফিস চত্বরেই খাওয়াদাওয়া করেন। কেউ কেউ বাড়িও নিয়ে যান। সকলের সঙ্গে ওই বিরিয়ানি খান দপ্তরের রেভিনিউ অফিসার কুন্তল মাঝি ও মহুরি সুমন্তবাবু। সন্ধ্যার পর দু’জনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দু’জনকে স্থানীয় শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সুমন্তকে কালনা মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। কুন্তলবাবুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিন ফুড সেফটি টিম, এসডিপিও ও নাদনঘাট থানার আইসি বিএলআরও অফিস চত্বর পরিদর্শন করেন। পিকনিকে অনেকেই ওই বিরিয়ানি খেয়েছেন। বাকিরা সুস্থ থাকলেও কীভাবে একজনের মৃত্যু ও আর একজন অসুস্থ হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মৃতের স্ত্রী রিমা মল্লিক বলেন, স্বামী অল্প টাকায় জমি-জায়গা সংক্রান্ত কাজ করে দিত। তাতে ওর উপর অনেকের রাগ ছিল। স্বামীকে মারার হুমকিও দিয়েছিল। ওর খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কুন্তলবাবুর সঙ্গে আমার স্বামীর ভালো সম্পর্ক ছিল। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুক। কালনার এসডিপিও রাকেশ চৌধুরী বলেন, বিএলএলআরও অফিস চত্বরে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হয়েছিল। খাবার খেয়ে একজন মারা গিয়েছেন। একজন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।