নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: ‘আচমকা দেখলাম, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে তীব্র বেগে নেমে আসছে ধূসর একটা স্রোত। কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ার মতো কিছুতে ঢেকে গিয়েছে পাহাড়। আমাদের গাড়ি সামনে এগচ্ছিল। কী ঘটছে, বুঝে উঠতে পারিনি কেউ। বিপদ আঁচ করেছিলেন আমাদের ড্রাইভার। এক মুহূর্ত দেরি না করে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে আসেন নিরাপদ উঁচু জায়গায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যে বিপর্যয়ের খবর পেলাম। একটু পরে যে ব্রিজ দিয়ে আমরা যেতাম, হড়পা বানে সেটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।’ একটানা বলে যাচ্ছিলেন অনুকূল পোদ্দার।
বিপর্যয় বিধ্বস্ত নেপাল থেকে রবিবার সকালে বাড়ি ফিরে এসেছেন বসিরহাটের প্রবীণ বাসিন্দা অনুকূলবাবু ও তাঁর স্ত্রী রেবা পোদ্দার। ঘরে ফিরলেও তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ তখনও স্পষ্ট। মান সরোবরে তীর্থ করতে যাচ্ছিলেন বসিরহাটের এই দম্পতি। অনুকূলবাবু বলছিলেন, ‘ওই দিন সকালে নেপাল-তিব্বত বর্ডারের দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ বদলে যায় সবকিছু। পাহাড়ি রাস্তার চারপাশে দুর্যোগের ছায়া। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ধেয়ে আসা ধূসর স্রোত ক্রমশ এগিয়ে আসছে। সঙ্গে তীব্র গর্জন। চালক সময়মতো গাড়ি না ঘোরালে আর বাড়ি ফিরতে হত না।’ রেবাদেবী বলেন, ‘এখনও কানে বাজছে আতঙ্কে ছুটতে থাকা মানুষের আর্তনাদ। আমরা তো প্রথমে বুঝতেই পারিনি যে কী হচ্ছে। যেদিকে নদী, সেদিক থেকে কুণ্ডলী পাকানো সাদা ধোঁয়ার মতো কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম। ড্রাইভার গাড়ি ঘোরানোর কয়েক মুহূর্ত পর বুঝতে পারি, বড়ো কিছু ঘটে গিয়েছে।’
তবে বেঁচে ফিরে আসার জন্য বসিরহাটের এই বৃদ্ধ দম্পতি ধন্যবাদ দিচ্ছেন ভিসা কর্তৃপক্ষকেও! অনুকূলবাবু বলেন, ‘ভিসা দেরিতে পাওয়ায় একদিন পর বেরই আমরা। যদি একদিন আগে ভিসা পেতাম, তাহলে হয়তো আমরাও বিপর্যয়ের কেন্দ্রস্থলে থাকতে পারতাম ওই সময়।’ ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে রেবাদেবী বলেন, ‘আমরা তো এসব ব্যাপারে অনভিজ্ঞ। শুধু দেখেছিলাম, পাহাড় থেকে সাদা ধোঁয়ার মতো কিছু একটা নামছে প্রবল গর্জনে। কিছুক্ষণের মধ্যে খবর আসে, যে ব্রিজটি আমাদের পেরনোর কথা ছিল, সেটির আর কোনো চিহ্ন নেই।’ তবে বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে জানান রেবাদেবী। নিজস্ব চিত্র