সংবাদদাতা, কাঁথি: ২০২৩ সালের ১৬ মে এগরা থানার সাহাড়া পঞ্চায়েতের খাদিকুল গ্রামে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ১১জনের। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে প্রায় আড়াই বছর। তবে, ঘোষণা সত্ত্বেও এগরায় গ্রিন বাজিহাব আজও গড়ে উঠল না। খাদিকুল গ্রামে ভানু বাগের বাজি কারখানায় কাজ চলাকালীন ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। মূল অভিযুক্ত ভানু সহ ১১জনের ঝলসে মৃত্যু হয়েছিল। মুহূর্তেই মৃত্যপুরী হয়ে উঠেছিল গ্রাম। স্বজনকে হারিয়ে, বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন আর বাজি তৈরি করেন না বাসিন্দারা। যাঁরা বাজি তৈরির কাজে কমবেশি যুক্ত থাকতেন, তাঁদের অনেকেই দিনমজুরির কাজ করেন। এদিকে ওই ঘটনার পর খাদিকুলে ছুটে গিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দিয়েছিল সরকার। ১১টি পরিবারের পুরুষ-মহিলা হোমগার্ডের চাকরি পেয়েছেন। তবে, বাজি তৈরি থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়েছে গ্রামের মানুষ। শুধুমাত্র বর্তমানে বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া কারখানা অবশিষ্টাংশ ভয়াবহ ঘটনাটির স্মৃতি বয়ে চলেছে।
ওই ঘটনার পর এলাকার কারবারিরা যাতে নিরাপদে বাজি তৈরি ও বিক্রি করতে পারেন, তারজন্য গ্রিনবাজি হাব তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তীকালে এগরা-১ ব্লকের ছত্রি মৌজায় বাজি হাব তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। ছত্রি এলাকায় পূর্তদপ্তরের জমি রয়েছে। মাঝে রয়েছে পুকুর। জলাশয় এবং ফাঁকা মাঠ থাকার কারণে জায়গাটি বাজিহাব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনুকূল ছিল। পরিকল্পনা ছিল, গ্রিনবাজি তৈরি করে এলাকার ছোট ব্যবসায়ী ও কারবারিদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা। সরকারি অনুমোদিত হাবে পরিবেশ বান্ধব বাজি তৈরি হলে কারবারি ও শ্রমিকরা আর্থিকভাবে উপকৃত হতেন। তারপর প্রায় দু’বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু বাজিহাব তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। তাই বাজিহাব কবে গড়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে নিরাপদ স্থান না থাকায় কারবারিরা নিজেদের বাড়িতেই বাজি বানান এবং বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই আইন মেনে বাজিহাব হোক, এটাই চান এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা পঙ্কজ বাগ, অমল মাইতিরা বলেন, সরকারি উদ্যোগে এগরায় গ্রিন বাজিহাব হলে খুব ভালো হতো। এগরা এলাকার যাঁরা বাজি তৈরি করেন, তাঁরা উপকৃত হতেন। কিন্তু এখনও অবধি কিছুই হয়নি। এবিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অমিয় রাজ বলেন, বাজির হাব তৈরির জন্য এলাকা পরিদর্শন করা হয়। প্রাথমিক মাপজোকও করা হয়। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, এখনও পর্যন্ত এব্যাপারে রাজ্য থেকে ছাড়পত্র আসেনি। তাই সব থমকে রয়েছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এনেছি। বিডিও দুর্গাপ্রসাদ ঘোষও জানিয়েছেন, এব্যাপারে কোনও নির্দেশিকা আমাদের কাছে আসেনি। আমরা আশাবাদী, অদূর ভবিষ্যতে বাজিহাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।