উনিশ শতক যেন বাঙালির কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনও আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না। আরও একবার আমরা ফিরে তাকাব আমাদের অতীতের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে।
উনিশ শতক যেন বাঙালির কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনও আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না। আরও একবার আমরা ফিরে তাকাব আমাদের অতীতের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে।
রাজা ভট্টাচার্য: গ্রে সাহেবের বাড়িতে ঢোকার সময় প্রত্যেকবারই বুকটা ঢিপঢিপ করতে থাকে চন্দ্রশেখরের। না না, গ্রে সাহেব মোটেই অন্য সাহেবদের মতো কড়া মেজাজের সাহেব নন। তাঁর বাড়িটিও গঙ্গার ধারে, চারদিকে বাগান।
মুশকিল হল, তাঁর পোষা হাউন্ড কুকুরটি চন্দ্রশেখরকে দু’চক্ষে দেখতে পারে না। চন্দ্রশেখর দেউড়িতে গিয়ে ঘণ্টা বাজালেই সে ছুটে আসে, আর হাঁকডাক শুরু করে দেয়।
আজ স্কুল থেকে বেরতে বেরতে তারাপদকে কথাটা বলেই ফেলল চন্দ্রশেখর, ‘শুধু ওই কুকুরটার জন্যই আমার আজকাল গ্রে সাহেবের বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করে না।’
তারাপদ একবার উদ্বিগ্ন চোখে আকাশের দিকে তাকাল। খুব মেঘ করে রয়েছে। মনে হচ্ছে যেন সন্ধে হয়ে এল। বলল, ‘তা না গেলেই তো পারিস!’
চন্দ্রশেখর কথাটার জবাব না দিয়ে ওর পিঠে একটা চাঁটি মারল।
এইবার তারাপদ একটু চমকে উঠে বলল, ‘ও হ্যাঁ, তাও তো বটে! না গিয়েই বা উপায় কী। ভয় পাস না। কুকুরটা দেখতেই অমন। প্রথমে ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে আসে বটে, কিন্তু তুই যদি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকিস, তাহলেই তোর গা-হাত-পা চাটতে আরম্ভ করে দেবে।’
দৃশ্যটা কল্পনা করেই একবার শিউরে উঠল চন্দ্রশেখর। ওই প্রকাণ্ড চেহারার কুকুর যদি ভালোবেসেও ওর গায়ের উপরে পা তুলে দেয়, শুধু ভয়েই ও বোধহয় অক্কা পাবে।
‘তুই কি আজকে গ্রে সাহেবের বাড়িতে যাবি?’
চন্দ্রশেখর মাথা নাড়ল, ‘একবার যেতেই হবে। তুইও চল না ভাই! তাহলেই আর কুকুরের ভয়টা থাকে না।’
তারাপদ গম্ভীর ভাবে মাথা নেড়ে বলল, ‘হবে না রে। বাবা বিশেষ করে বলে দিয়েছে স্কুল থেকে সোজা বাড়ি চলে যেতে।’
বিষণ্ণ ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে চন্দ্রশেখর বলল, ‘তাহলে আর কী। একাই যাই।’
গোলদিঘি থেকে একটু এগিয়ে তারাপদ ডানদিকে ঘুরে গেল। চন্দ্রশেখর একা একাই হাঁটতে লাগল উত্তর দিকে। এমনিতে ওর বাড়ি হিন্দু স্কুল থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটাপথের দূরত্বে, পটুয়াটোলা লেনে। কিন্তু আজ ওকে অনেকটা রাস্তা হাঁটতে হবে। গ্রে সাহেবের বাড়ি হিন্দু স্কুল থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে, স্ট্র্যান্ড রোডের কাছে। এটুকু রাস্তা চন্দ্রশেখর হেঁটেই চলে যাবে। এই বাড়িতেই বাস করেন ডেভিড হেয়ার।
আসলে হেয়ার সাহেব আজ চারদিন হয়ে গেল স্কুলে আসছেন না!
তাঁকে সব ছাত্রই ভালোবাসে। কিন্তু চন্দ্রশেখর যেন দিনে অন্তত একবার হেয়ার সাহেবকে না দেখলে একেবারে হাঁপিয়ে ওঠে। গৌরবর্ণ বিরল কেশ মানুষটির পালকি হিন্দু স্কুলের চত্বরে ঢুকে পড়লেই একটা শোরগোল পড়ে যায়। সব ছেলেই অন্তত একবার পৌঁছতে চায় ডেভিড হেয়ারের কাছাকাছি। চন্দ্রশেখর লাজুক স্বভাবের ছেলে। সে এই ঠেলাঠেলির মধ্যে ঢুকতে পারে না। কিন্তু হেয়ার সাহেবের কিছুই চোখ এড়ায় না। সবার সঙ্গে দু-একটা কথা বলার পর তিনি ঠিক একবার ডেকে নেন চন্দ্রশেখরকে, তারপর ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে তার পড়ার তত্ত্ব নেন।
সেই মানুষটা কেন টানা চার দিন স্কুলে আসছেন না, সেটা মাথাতেই আসছিল না চন্দ্রশেখরের। তাই ও আজ বাড়িতে বলেই এসেছে, একবার হেয়ার সাহেবের খবর নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরবে।
চন্দ্রশেখরের কপালটা ভালো বলতে হবে। কোনও কারণে গ্রে সাহেবের কুকুরটাকে আজ বেঁধে রাখা হয়েছে। ও প্রায়ই এই বাড়িতে যাতায়াত করে, ফলে দেউড়ির দারোয়ানেরাও ওর পথ আটকাল না। মূল ফটক দিয়ে না ঢুকে ও ডানদিকের দরজাটা দিয়ে সরাসরি ঢুকে পড়ল হেয়ার সাহেবের ঘরেই। আর ঢুকেই একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল চন্দ্রশেখর।
টানা চারদিন হেয়ার সাহেবকে না দেখার ফলে ওর কেমন একটা দৃঢ় ধারণা হয়েছিল, সাহেব নিশ্চয়ই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে হেয়ার বসে আছেন জানলার পাশে একটি চেয়ারে। তাঁর হাতে একগোছা কাগজ। খুব মন দিয়ে কিছু একটা পড়ছেন তিনি।
এই পর্যন্ত খুব উৎসাহের সঙ্গে হেঁটে এসে এখন একটু ইতস্তত করতে লাগল চন্দ্রশেখর। সাহেব ব্যস্ত আছেন। এই অবস্থায় তাঁকে বিরক্ত করা ঠিক হবে কি না, ও বুঝতে পারছে না।
কিন্তু ছাত্রদের সম্পর্কে হেয়ার সাহেবের বোধহয় কোনও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে। কয়েক সেকেন্ড পরেই হঠাৎ চোখ তুলে সোজাসুজি ওর দিকে তাকালেন তিনি। তারপরেই তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল কোমল হাসিতে।
‘হ্যালো চন্দর! হোয়েন ডিড ইউ কাম?’
‘জাস্ট নাউ, স্যার!’ ইংরেজিতেই বলল চন্দ্রশেখর, ‘আপনি পড়ছিলেন, তাই...’
দ্রুত উঠে এসে হাত ধরে চন্দ্রশেখরকে ভেতরে নিয়ে গেলেন হেয়ার, ‘সিট ডাউন মাই বয়। সময় দেখে তো মনে হচ্ছে সোজা স্কুল থেকে আসছ!’
কিছু না বলে একটু হাসল চন্দ্রশেখর। তারপর বলল, ‘আপনি চারদিন হিন্দু স্কুলে আসেননি। তাই মনে হল, একবার দেখে আসি— আপনার শরীর ঠিক আছে কি না।’
হেয়ার বললেন, ‘আমি একদম সুস্থ আছি। অন্য একটা কাজে শহরের বাইরে যেতে হয়েছিল, তাই কয়েক দিন কোনও স্কুলেই যাওয়া হয়নি।’
প্রত্যেকদিন এই স্কুলে স্কুলে ঘুরে বেড়ানোটা হেয়ারের একটা প্রধান কাজ। নিজের চোখে তিনি দেখে নিতে চান স্কুলের কাজ ঠিকঠাক চলছে কি না। আর সেই দৃশ্যটাও দেখার মতো। কোনও অজানা কারণে হেয়ার ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করেন না। তার বদলে তিনি পালকিতে চড়ে যাতায়াত করেন। অসংখ্য বালক এই সময়টা তাঁর পালকির পাশাপাশি ছুটতে থাকে, আর চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘মি পুওর বয়, হ্যাভ পিটি অন মি সাহেব, মি টেক ইন ইওর স্কুল।’
কোন কাজের জন্য সাহেবকে বাইরে যেতে হয়েছিল, সেসব অবশ্য চন্দ্রশেখর জিজ্ঞাসা করল না। সাহেব সুস্থ আছেন, এতেই সে খুশি।
কিন্তু হেয়ার খুশি হতে পারলেন না। কয়েক সেকেন্ড চন্দ্রশেখরের দিকে তাকিয়ে থেকে তিনি বললেন, ‘দাঁড়াও, আগে তোমার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। সোজা স্কুল থেকে এসেছ বলেই মুখটা অমন শুকনো দেখাচ্ছে।’
গ্রে সাহেবের বাড়ির কাছেই এক মিঠাইওয়ালার দোকান আছে। হেয়ার সাহেবের সঙ্গে তার চুক্তি আছে। হেয়ারের বাড়িতে যেকোনও বালক এলেই সেই দোকান থেকে মিঠাই আসে। আজও পেট ভরে মিঠাই খেল চন্দ্রশেখর। হাজার হলেও হেয়ার সাহেব খ্রিস্টান। তাঁর সঙ্গে একাসনে বসে খাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সেই কারণেই এই ব্যবস্থা।
চন্দ্রশেখর খাওয়া শেষ করার আগেই বড় বড় ফোঁটায় তুমুল বৃষ্টি নেমে গেল। এইবার চন্দ্রশেখরের মুখ সত্যিই শুকিয়ে গেল। আজ বাড়ি থেকে বেরনোর সময় তাড়াহুড়োয় সে ছাতা আনতে ভুলে গেছে। এই সাংঘাতিক বৃষ্টির মধ্যে এতটা রাস্তা হেঁটে পাড়ি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নির্ঘাত বৃষ্টিতে ভিজে বিচ্ছিরি একটা অসুখ করবে।
হেয়ার অবশ্য বিশেষ বিচলিত হলেন না। নানা বিষয়ে গল্প করতে করতে নিজেও সামান্য খেয়ে নিলেন। সন্ধ্যা হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। এটাই তাঁর ডিনারের সময়।
আরও প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে বৃষ্টি থেমে গেল। আর দেরি না করে উঠে দাঁড়াল চন্দ্রশেখর। মাথা নিচু করে হেয়ার সাহেবকে আরও একবার অভিবাদন জানিয়ে বলল, ‘আমি তাহলে বিদায় নিই স্যার। এবার আপনি বিশ্রাম করুন। শুভরাত্রি স্যার।’
হেয়ার সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘দাঁড়াও, তোমাকে একটু এগিয়ে দিই। পথে গোরারা হাঙ্গামা করতে পারে।’
এই এক উপদ্রব আছে বটে কলকাতার রাস্তায়। সন্ধ্যার পর বেকার ইংরেজের দল মাতাল অবস্থায় এখানে ওখানে দল পাকিয়ে গণ্ডগোল করে বেড়ায়।
চন্দ্রশেখর বলল, ‘আপনি ব্যস্ত হবেন না। আমি ঠিক পথ চিনে ভিতরের রাস্তা দিয়ে চলে যেতে পারব।’
হেয়ার অবশ্য রাজি হলেন না। বাইরে যাওয়ার পোশাক পরে, একটা মোটা লাঠি হাতে নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়লেন চন্দ্রশেখরের সঙ্গে। তারপর অভ্যাস অনুযায়ী তার বন্ধুদের পড়াশোনার খবর জিজ্ঞাসা করতে করতে সঙ্গে চললেন।
বহুবাজারের মোড়ে পৌঁছে চন্দ্রশেখর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এই অঞ্চলটি কখনও ঘুমোয় না। এখন রাস্তাঘাটে বহু লোক চলাফেরা করছে।
‘আপনাকে আর আসতে হবে না সাহেব।’ চন্দ্রশেখর দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, ‘এইবার আমি একাই দিব্যি চলে যেতে পারব।’
হেয়ার একবার চারদিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ আর তেমন চিন্তা নেই। তবু চল, তোমাকে মাধব দত্তের বাজারটা পর্যন্ত পৌঁছে দিই।’
আবার কথা বলতে বলতে এগতে লাগলেন হেয়ার। চন্দ্রশেখরের ছোট্ট হাতটা তিনি চেপে ধরে আছেন তাঁর মস্ত হাতের মধ্যে।
কলেজ স্ট্রিটে গোলদিঘির কাছে পৌঁছে চন্দ্রশেখর বলল, ‘এবার তো প্রায় পৌঁছেই গেছি সাহেব। এবার আমি এই ডানদিকের রাস্তাটা ধরে এক ছুটে বাড়িতে ঢুকে যাব। আপনি আর চিন্তা করবেন না। একটা পালকি ডেকে বাড়ি চলে যান। অনেক রাত হয়েছে।’
হেয়ার নিজেও এতক্ষণে নিশ্চিন্ত হলেন। অভ্যাস অনুযায়ী চন্দ্রশেখরের মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, ‘সাবধানে চলে যাও। রাস্তায় কিন্তু জল জমেছে। আমি এখানে দাঁড়াচ্ছি।’
‘দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না স্যার। এখান থেকে আমার বাড়ি বড়জোর তিন মিনিটের রাস্তা,’ বলল চন্দ্রশেখর।
হেয়ার সাহেব তার কাঁধে মৃদু একটা ঠেলা দিয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে। তুমি ওই পর্যন্ত চলে গেলে আমি ফিরে যাব।’
এইবার চন্দ্রশেখর দ্রুত পায়ে হাঁটতে লাগল। গোলদিঘির চারপাশের বড় বড় গাছগুলোতে জোনাকি জ্বলছে। সত্যিই আজ বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছে। তবে হেয়ার সাহেবের বাড়িতে গিয়েছিল সে। কাজেই ধমক খাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।
গোলদিঘির পূর্ব প্রান্তে পৌঁছে সে একবার পিছন ফিরে তাকাল। হেয়ার সাহেব এখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ওকে দেখে একবার হাত তুলে বিদায় জানালেন। চন্দ্রশেখরও হাত তুলে অভিবাদন জানিয়ে হনহন করে হাঁটা দিল নিজের বাড়ির দিকে।
বাড়িতে পৌঁছতেই অবশ্য মা ছুটে এলেন। তাঁর এক হাতে গামছা, আর এক হাতে শুকনো কাপড়। বললেন, ‘সবার আগে কাপড় ছেড়ে নে। ভিজিসনি তো? কেমন আছেন সাহেব?’
মাকে নিশ্চিন্ত করে নিজের ঘরে ঢুকে পড়ল চন্দ্রশেখর। সবার আগে এই স্কুলের পোশাকটা ছেড়ে ফেলা দরকার।
এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শোনা গেল। বন্ধ ঘরের ভিতর থেকেই চন্দ্রশেখর শুনতে পেল, ওর বাবা এগিয়ে গিয়ে বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘বাইরে কে? কাকে চাই?’
আর ওকে একেবারে স্তম্ভিত করে দিয়ে বাইরে থেকে ভেসে এল হেয়ার সাহেবের পরিচিত সদয় কণ্ঠস্বর, ‘ইজ চন্দর ইন?’ চন্দ্র কি পৌঁছে গিয়েছে?
এতখানি পৌঁছে দিয়েও হেয়ার সাহেব নিশ্চিন্ত হতে পারেননি। আবার এইটুকু পথ পাড়ি দিয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করতে এসেছেন— চন্দ্রশেখর নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে কি না।
বাইরে থেকে এখন ভেসে আসছে বাড়ির বড়দের কোলাহল। এদের কাছে হেয়ার সাহেব দেবতার সমতুল্য। সকলেই তাঁর সঙ্গে একবার কথা বলতে চায়। হেয়ার হাসিমুখে তাদের সম্ভাষণ করছেন।
বন্ধ ঘরের মধ্যে একা দাঁড়িয়ে চন্দ্রশেখর দেব বুঝতে পারল, তার চোখ এইবার জলে ভরে যাচ্ছে।
বিদেশি মানুষটি এত ভালোবাসা তাঁর বুকের মধ্যে ভরে রাখেন কী করে?