সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ছটপুজোর রাতে সামশেরগঞ্জের বাসুদেবপুর বাজারে দু’টি সোনার দোকানে শাটার কেটে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দু’টি দোকান থেকে কয়েক লক্ষ টাকার সোনারুপোর গয়না নিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বাজার এলাকায় দু’জন নৈশপ্রহরী থাকে। তা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ধন্দে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী এই চুরির ঘটনায় যুক্ত ছিল। চোরেদের শাটার কেটে দোকানে ঢোকার ছবি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সেই ফুটেজ দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ মনে করছে।
সোমবার রাতে বাসুদেবপুর বাজারে একটি সোনার দোকানের মাঝের অংশের শাটার কাটে দুষ্কৃতীরা। তারপর কোলাপসিবল গেটের পাঁচটি তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। ভল্ট খুলে সওয়া দুই ভরি ওজনের সোনার চেন, কিছু রুপোর গয়না ও প্রাচীন আমলের মুদ্রা নিয়ে চম্পট দেয়। তবে তার আগে দোকানের সব জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে দেয় তারা।
কয়েকটি দোকান পেরিয়ে আরও একটি সোনার দোকানে একই কায়দায় শাটার ভেঙে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকেও সোনার গয়না ও জিনিসপত্র চুরি করে পালিয়ে যায়। তারা ঢোকার আগে দোকানের বাইরে লাগানো সিসি ক্যামেরা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। একটি সোনার দোকানের হার্ড ডিস্ক নিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে দুষ্কৃতীদের এলাকায় আসার ছবি অন্য একটি দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রাত দেড়টা নাগাদ আটজনের একটি দল এলাকায় ঢুকছে। তাদের মুখ ঢাকা, হাতে ধারালো অস্ত্র। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই দু’টি দোকানে চুরি করে তারা পালিয়ে যায়।
বাসুদেবপুর বাজার এলাকায় রোজ রাতে দু’জন নৈশপ্রহরী থাকে। ঘটনার রাতেও নৈশপ্রহরীরা ছিল। কিন্তু রাত গভীর হতেই তারা অন্যদিকে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ফলে দুষ্কৃতীরা দু’টি দোকানে চুরি করে গেলেও তারা কিছুই টের পায়নি।
একটি সোনার দোকানের মালিক সরোজকুমার দাস বলেন, ভোরে ফোনে দোকানে চুরির খবর পাই। এসে দেখি, সব নিয়ে চলে গিয়েছে। অপর দোকানের মালিক অনুপ সাহা বলেন, খবর পেয়েই তাড়াতাড়ি দোকানে আসি। দেখি শাটার কেটে, গেটের তালা ভেঙে সবকিছু নিয়ে গিয়েছে। প্রচুর টাকার সোনার গয়না চুরি হয়েছে। আশা করছি, পুলিশ তাড়াতাড়ি দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করে চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধার করবে।
বাসুদেবপুর বাজারে বহু দোকানপাট রয়েছে। মূল রাস্তা থেকে ভিতরে গলির মধ্যে সোনার দোকান দু’টি রয়েছে। সোমবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বাজারের সমস্ত দোকান বন্ধ ছিল। সরোজবাবু রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে দেখে যান। অনুপবাবু রবিবার দোকানে তালা লাগিয়ে গিয়েছিলেন। দু’টি সোনার দোকানে চুরির ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত। তাঁরা পুলিশি টহলদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।