নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নাগা সাধু বেশে অভিনব কায়দায় শিল্পাঞ্চলে ছিনতাই করছে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরা। টার্গেট শিবভক্তরা। সোমবার পর পর দু’টি ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তে নেমে নাগা সাধুর বেশধারী চার দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পাঁচজন পলাতক।
পুরনো কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে নাগা সাধুর দর্শন। হাতে যেন চাঁদ পেয়েছিলেন কৃষ্ণ বাউরি ও তাঁর স্ত্রী। কুলটি থানা এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দামাগড়িয়া ফ্লাইওভার লাগোয়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ‘নাগা সাধু’রা। বাইক থামিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতেই ভুল ভাঙে দম্পতির—নাগা সাধুর বেশধারীরা আসলে দুষ্কৃতী। বধূর গলায় থাকা সোনার চেন (মঙ্গলসূত্র) ছিনিয়ে চম্পট দেয় তারা।
ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যান দম্পতি। সম্বিত ফিরতেই কৃষ্ণ পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, অন্য লেনে দুর্গাপুর অভিমুখে দাঁড়িয়ে ছিল একটি বিলাসবহুল গাড়ি। তাতে করেই চম্পট দেয় ভন্ড সাধুরা। সেই সঙ্গে সোমবার দিন ঠিক কি ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ওই অভিযোগ পত্রে তুলে ধরেন দম্পতি। তদন্তে নামে কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির পুলিস।
এই ঘটনার ঠিক কিছু পরেই শিল্পাঞ্চলের এক ব্যবসায়ীর ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, আসানসোল থেকে চৌরঙ্গী অভিমুখে নিজের কারখানায় আসার কয়েকজন ভন্ড সাধুর খপ্পরে পড়েন। চন্দ্রচূড় মন্দিরের অদূরে জাতীয় সড়কের ব্রিজের উপর ধানবাদ যাওয়ার লেনজুড়ে দাঁড়িয়ে ছিল নাগা বেশধারী ওই সাধুরা। তাদের আশীর্বাদ নিতে তিনি গাড়ি থামান। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীর গলায় থাকা সোনার চেন ছিনতাই করে তারস্বরে চিৎকার করতে থাকে। ব্যবসায়ীর কথায়, ‘আমি ভয়ে এলাকা ছাড়ি।’ পুলিস খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কজুড়ে কুলটি থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ছিনতাই করেছে ওই সাধুরা। এরপরই গাড়ির নম্বর ধরে শুরু হয় তল্লাশি। পুলিসের কাছে খবর ছিল, মঙ্গলবার ফের অপারেশনে আসবে সাধু বেশধারী দুষ্কৃতীরা। সেই মতো ঝাড়খণ্ড থেকে তারা বাংলায় ঢুকতেই কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির পুলিস গাড়িটিকে ধাওয়া করে। গাড়িতে ন’জন ছিল। পাঁচজন পালাতে সক্ষম হলেও চারজনকে ধরে ফেলে পুলিস।
ধৃত চারজনই নগ্ন। গোটা দেহে ছাই মাখা। এমন সাধু বেশধারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, তারা আসলে সাধু সন্ততি নয়। পাক্কা দুষ্কৃতী। মানুষের ভক্তিভাবকে কাজে লাগিয়ে ছিনতাই করতে নেমেছে। ধৃতদের মধ্যে অর্জুন নাথ ও মনোহর নাথের বাড়ি হরিয়ানার সোনেপথে। বাকি দু’ জন সরজু সিং ও আলম নাথের বাড়ি উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। পুলিসি জেরায় জানা গিয়েছে, শ্রাবণ মাসের সোমবার শিবের মাথায় জল ঢালতে ভিড় থাকে ভক্তদের। মহাদেবের কাছে আসা ভক্তরা যদি রাস্তায় নাগা সন্ন্যাসীদের দেখেন, স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করবেন। সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে ছিনতাইয়ের ওই অভিনব কৌশল নিয়েছিল অর্জুন-সরজুরা। দামী গাড়ি নিয়ে এসেছিল তারা। যাতে কারও না সন্দেহ হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, হরিয়ানা, উত্তরখণ্ডের দুষ্কৃতীরা কেন হঠাৎ বাংলাকে টার্গেট করছে? উত্তর খুঁজছে স্তম্ভিত পুলিস। বাকি পাঁচজনের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।