সংবাদদাতা, কান্দি: কংক্রিট সেতুর দাবি পাঁচ দশকের। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কানা ময়ূরাক্ষী নদীর উপর বাঁশের সেতুই একমাত্র ভরসা। তার উপর দিয়ে যাতায়াত করেন কান্দি ও খড়গ্রাম ব্লক এলাকার অন্তত ৩০টি গ্রামের বাসিন্দা। তবে ওই ঝুঁকির বাঁশের সেতুটি বর্ষায় অতি বিপজ্জনক হয়ে উঠে। সেতু থেকেও বারবার তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই স্থানীয় পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সেতুর দুইদিক বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা হচ্ছে।
কানা ময়ূরাক্ষীর ওই বাঁশের সেতুর দক্ষিণে রয়েছে কান্দি ব্লকের পুরন্দরপুর ও উত্তরে রয়েছে খড়গ্রাম ব্লকের ধামালিপাড়া। দুই এলাকার বাসিন্দারা প্রায় পাঁচ দশক ধরে নদীর ওই জায়গায় একটি কংক্রিটের সেতুর দাবি করে আসছেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাম আমলে প্রথম সেখানে কংক্রিটের সেতুর দাবি উঠে। তার জন্য বাসিন্দারা প্রয়াত মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী, প্রয়াত অমলেন্দু রায় থেকে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু দাবি মেটেনি। ২০১১ এর পর তৃণমূলের মন্ত্রীদেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। আর তার পরেই সেতুর কাজ কিছুটা এগিয়েছে। খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কানা ময়ূরাক্ষীর ওই জায়গায় সেতু তৈরির জন্য ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়াররা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীতে জেলা পুর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা দুইবার এলাকা চিহ্নিত করে গিয়েছেন। সম্প্রতি নবান্ন থেকে পাঠান ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দলও সেখানে পরিদর্শনে আসেন।
আর তাতেই আশায় বুক বেধেছেন বাসিন্দারা। ধামালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনসার শেখ, কিতাব শেখ, হান্নান শেখ প্রমুখ জানান, পাঁচদশক ধরে কংক্রিটের সেতুর দাবি হলেও এমনভাবে ইঞ্জিনিয়ারদের আনাগোনা কখনও দেখা যায়নি। তাই কিছুটা হলেও তাঁরা আশাবাদী। স্থানীয় বালিয়া পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান গোকুল চন্দ্র ঘোষ বলেন, নবান্নের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে তাঁরা দ্রুত এর ডিপিআর তৈরি করবেন।
এদিকে বর্ষায় অতি ভয়ানক হয়ে উঠে কানা ময়ূরাক্ষী। নদীর জল দুকূল ছাপিয়ে চলে জল। সেই সময় বাঁশের সেতুও টলমল করতে থাকে। ওই টলমল অবস্থায় অনেকেই সেতু থেকে নদীতে তলিয়ে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকমাস আগেও সেখানে নদীতে তলিয়ে গিয়ে এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে।
আর এরপরেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় পঞ্চায়েত। সম্প্রতি বাঁশের সেতুর দুইপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে। যাতে নদীতে জল এলেও কেউ তলিয়ে না যান। বালিয়া পঞ্চায়েত প্রধান বেলি ঘোষ বলেন, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে আমরা যতটা পেরেছি সাবধানতা অবলম্বন করেছি। ভরা নদীতে যাতে সেতু থেকে কেউ ছিটকে নদীতে পড়ে না যান। সেই কারণে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরার কাজ শুরু হয়েছে।