নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: খাতায়কলমে পড়ুয়ার সংখ্যা ১২। কিন্তু তার অর্ধেকও রোজ স্কুলে আসে না। শুক্রবার মাত্র তিনজন পড়ুয়া নিয়ে ক্লাস হল জলপাইগুড়ির চড়কডাঙি জুনিয়র হাইস্কুলে। এদিন ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাসরুমে চেয়ার-টেবিল, ব্ল্যাকবোর্ড, চক-ডাস্টার সবই আছে। কিন্তু পড়ুয়ার দেখা নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নজরে পড়ল, একটি ফাঁকা ক্লাসরুমে হাইবেঞ্চের উপর তিনটি ব্যাগ রাখা। পরে ওই পড়ুয়াদের দেখা মিলল কম্পিউটার ক্লাসের ঘরে।
স্কুলে দু’জন শিক্ষিকা। অফিশিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকায় এদিন স্কুলে আসেননি টিচার ইনচার্জ পিয়ালী ভট্টাচার্য। আর একজন শিক্ষিকা স্টাফরুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। প্রশ্ন করায় বললেন, আজ তিনজন পড়ুয়া এসেছে। দু’জন অষ্টম শ্রেণির, একজন ষষ্ঠ শ্রেণির। মাত্র তিনজন পড়ুয়া নিয়ে একটা জুনিয়র হাইস্কুল চলছে? জবাবে ওই শিক্ষিকার বক্তব্য, খাতায়কলমে ১২ জন পড়ুয়া আছে। কিন্তু রোজ সবাই আসে না। পড়ুয়া না এলে আমরা কী করব?
পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করার ব্যাপারে চড়কডাঙি জুনিয়র হাইস্কুলের তরফে আদৌও কি কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? ফোনে জানতে চাওয়া হলে টিচার ইনচার্জ পিয়ালী ভট্টাচার্য বলেন, অনেক চেষ্টা হয়েছে। আমি নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানিয়েছি। বলেছি, ভর্তির ফি লাগবে না। আমি দিয়ে দেব। তারপরও পড়ুয়া মেলেনি। তাঁর দাবি, আমার স্কুল লাগোয়া প্রাইমারি স্কুল। ওই স্কুলের শিক্ষকদের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে চতুর্থ শ্রেণির পর পড়ুয়াদের আমাদের স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে তাঁরা উদ্যোগ নেন। তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এবার আমাদের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি একজন পড়ুয়াও ভর্তি হয়নি।
চড়কডাঙি জুনিয়র হাইস্কুলে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনজন, সপ্তম শ্রেণিতে দু’জন এবং অষ্টম শ্রেণিতে সাতজন পড়ুয়া রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে এবার কোনও পড়ুয়া ভর্তি না হওয়ায় আগামী বছর ষষ্ঠ শ্রেণি ফাঁকা হয়ে যাবে। আবার এবছর অষ্টম শ্রেণিতে সাতজন পড়ুয়া রয়েছে, তারা পরের বছর অন্য স্কুলে চলে গেলে পরের বছর পড়ুয়ার সংখ্যা আরও কমবে।
টিআইসি শিক্ষিকার অবশ্য দাবি, আমাদের স্কুলের কাছাকাছি দু’টি হাইস্কুল রয়েছে। ফলে অভিভাবকরা সেখানেই ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাচ্ছেন। নবম শ্রেণিতে ভর্তির ঝামেলা এড়াতে পড়ুয়াদের বাবা-মায়েরা জুনিয়র হাইস্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতে চাইছেন না। বিষয়টি শিক্ষাদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নিজস্ব চিত্র