Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিশু, দরকার ১৬ কোটির ইঞ্জেকশন, দিশেহারা দিনমজুর পরিবার

দুরারোগ্য স্পাইনাল মাসকুইলার এট্রোফি রোগে আক্রান্ত দু’বছরের শিশু। তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজন ১৬ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন।

দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিশু, দরকার ১৬ কোটির ইঞ্জেকশন, দিশেহারা দিনমজুর পরিবার
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: দুরারোগ্য স্পাইনাল মাসকুইলার এট্রোফি রোগে আক্রান্ত দু’বছরের শিশু। তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজন ১৬ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন। এহেন অবস্থায় ভরতপুর-২ ব্লকের সালারের সর্মস্তিপুরের ওই শিশুর পরিবারের দিশেহারা অবস্থা। বিপুল অঙ্কের এই টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। তাই পরিবারের লোকজন হতাশ হয়ে পড়েছেন। কান্দি মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, ওই শিশুর পরিবারকে পরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করব। সরকারিভাবে কোনো সাহায্য করা যায় কি না, তা নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement


এবিষয়ে ভরতপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শীর্ষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের সমস্ত মাংসপেশী অকেজো হয়ে পড়ে। শিশুর বাড় থেমে যায়। তবে, একমাত্র ১৬কোটি টাকার‌ইঞ্জেকশন শিশুটির জীবন বাঁচাতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত রোগী খুব কম সংখ্যায় দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্মস্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহরুখ খান দিনমজুরের কাজ করেন। দু’কামরার ঘর। জমানো পুঁজিও তেমন নেই। এমন অবস্থায় তাঁরা দু’বছরের সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। শাখরুখ বলেন, জন্মের তিনমাস পর ছেলের এই রোগ ধরা পড়ে। প্রথমে কলকাতায় ও পরে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করিয়েছি। সব জায়গাতেই ডাক্তারবাবুরা ১৬ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের পক্ষে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ছেলের এমন অবস্থার কারণে আমাদের ঘুম চলে গিয়েছে। রাতে চোখ বন্ধ করেও ঘুম আসে না। কাজেও যেতে পারি না। মা নাতমিসা খাতুন তাঁর দু’ বছরের সন্তান সোলেমান খানকে কোলে নিয়ে শুধুই চোখের জল ফেলে চলেছেন। তিনি বলেন, ১৬ কোটি দূরের কথা, আমাদের পক্ষে ১৬ লক্ষ টাকা জোগাড় করাও সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় ছেলেকে তিলে তিলে মরতে দেখা ছাড়া কোনো উপায় নেই। শুধুমাত্র টাকার অভাবে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ