নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ীর রহস্যময় উপত্যকা ডাকাই। শীতকালে উপত্যকাজুড়ে ফোটে বনফুল। শালগাছের পাতা ছুঁয়ে শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। পাহাড়শ্রেণির গায়ে ধাক্কা খেয়ে বাতাস এখানে জোরে বয়। উপত্যকাজুড়ে আদিবাসীদের ছোট ছোট গ্ৰাম। ডাকাই উপত্যকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হলুদ মাটি ও পাথরের পাহাড়। জ্যোৎস্না রাতে পাহাড় শ্রেণিজুড়ে হলুদ আভা ছড়িয়ে পড়ে।
বেলপাহাড়ীতে ঝাড়খণ্ড সীমানায় রয়েছে বেলদা পাহাড়শ্রেণি। জঙ্গল ও পাহাড়ি এই এলাকায় জনবসতি খুব কম। জঙ্গল ও পাহাড়ি উপত্যকার মাঝে কয়েক ঘর বাসিন্দা নিয়ে ছোট ছোট গ্ৰাম। শীতে এই এলাকায় ঠান্ডা জাঁকিয়ে পড়ে। উপত্যকাজুড়ে থোকা থোকা শিলাই বনফুল দেখা যায়। পাহাড়ঘেরা উপত্যকায় বনময়ূর, শজারু, খরগোশ ও হুরালের দেখা মেলে। দুর্গম এই এলাকায় বাইরের জগতের মানুষের পা খুব বেশি পড়েনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা না নিলে পথ হারানোর সম্ভবনা পদে পদে। ডাকাই উপত্যকার চারিদিকে পাহাড় শ্রেণির মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে হলুদ মাটির পাহাড় বা চাঁদের পাহাড়। পাহাড় থেকে ক্ষীণ ধারার একটি ঝর্না বয়। পাহাড়ের কাছ ঘেঁষে আদিম মানুষের একটি গুহা রয়েছে। স্থানীয় মানুষ চাঁদের পাহাড়ের কথা বহির্জগতের মানুষের কাছে সাধারণত বলতে চান না। পাহাড়ের হলুদ মাটি দিয়ে তাঁরা ঘর বানান। যে ঘর গরমকালে ঠান্ডা ও শীতকালে গরম থাকে। গ্ৰামবাসীদের বিশ্বাস, পাহাড়ের দৈব মাটি প্রবল গরম ও শীত থেকে রক্ষা করে। বিনপুর-২ সদর অফিসের চেক পোস্ট থেকে বাম দিক দিয়ে কাঁকড়াঝোর যাওয়ার রাস্তা। মাইলখানেক রাস্তা পার হলে বদারি এলাকা পড়বে। সেখান থেকে ৮ কিমি গেলেই দূর থেকে দেখা মিলবে বেলদা পাহাড়শ্রেণির। ডাকাই উপত্যকার চারিদিকে ঘেরা পাহাড় শ্রেণির মাঝেই রয়েছে হলুদ মাটির পাহাড়। যে পাহাড়ে চাঁদের আলো পড়লে হলদে আভা উপত্যকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ডাকাই উপত্যকার বাসিন্দা দুলাল হেমব্রম বলেন, স্থানীয় একটি স্কুলে আমি শিক্ষকতা করি। উপত্যকার চারদিকে পাহাড় রয়েছে। পাহাড়গুলির মাঝেই রয়েছে হলুদ মাটির পাহাড়। জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলো হলুদ পাহাড়ে পড়লে উপত্যকাজুড়ে হলুদ আভা ছড়িয়ে পড়ে। মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। বছরের পর বছর ধরে এই উপত্যকা মানুষের নজরের বাইরে রয়েছে। এখন দু’-একজন এই এলাকায় বেড়াতে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা না নিলে পথ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিনপুরের কাকো এলাকার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক কলহন মণ্ডল বলেন, হলুদ মাটির পাহাড়ের সন্ধানে এক বার ডাকাই উপত্যকায় গিয়েছিলাম। পথ হারিয়ে সারাদিন ঘুরপাক খাই। স্থানীয় এক গ্ৰামবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ফিরে আসি। এখন রাস্তা হয়েছে। যাতায়াত সহজ হয়েছে। তবে উপত্যকায় ঢুকলে বাইরের মানুষদের পথ হারাবার সম্ভবনা রয়েছে। বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, বেলপাহাড়ীর বেলদা রেঞ্জের মাঝে একটি হলুদ মাটির পাহাড় রয়েছে। জ্যোৎস্না রাতে অপরূপ সৌন্দর্য্যের জন্য কেউ কেউ একে চাঁদের পাহাড় বলে ডাকে। পাহাড়ের কাছেই একটি গুহা রয়েছে। গুহাটি কত প্রাচীন তা জানা যায় না। বাইরের জগতের মানুষের কাছে এই এলাকা এখনও অজানা বললেই চলে। নিজস্ব চিত্র