সংবাদদাতা, চোপড়া: ঘন কুয়াশার জেরে মঙ্গলবার সকালে চোপড়ার ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের মোলানি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ল স্কুল পড়ুয়া বোঝাই একটি গাড়ি। ঘটনায় গাড়িতে থাকা ১১ জন পড়ুয়াই কমবেশি জখম হয়েছে। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চোপড়া সদরের একটি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশার মধ্যে আচমকা সামনে আসা একটি টোটোকে বাঁচাতে গিয়ে সংঘর্ষ হয়। এরপরই ভ্যানটি ছিটকে রাস্তার পাশে থাকা নয়ানজুলিতে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় টোটোচালকও জখম হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে হাত লাগান। গাড়ির ভিতর থেকে শিশুদের একে একে উদ্ধার করা হয়। আসিরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ছেলেকে গাড়িতে তুলে দিয়ে বাড়ি ফেরার আগেই চালকের ফোন পাই। ঘটনাস্থলে এসে দেখি গাড়িটি জলে পড়ে রয়েছে। দ্রুত বাচ্চাদের উদ্ধার করা হয়। পড়ুয়াদের মধ্যে কয়েকজনকে তড়িঘড়ি দলুয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছে। শিশুদের আঘাত গুরুতর নয়।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালেই ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের সরস্বতী দোলুয়া এলাকায় বাইক ও একটি মারুতি ভ্যানের সংঘর্ষে বাইক চালক গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও সোমবার বিকেলে সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লালুগছ এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১ মাসের এক শিশুকন্যা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজার থেকে শিশুকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য টোটোতে ওঠার মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি বাইক মা ও শিশুকে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় শিশুটি মায়ের কোল থেকে ছিটকে বাইকের তলায় পড়ে গুরুতর জখম হয়। দ্রুত দলুয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরপর এসব দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। সমস্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চোপড়া থানার পুলিশ।