Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন

হিংসাত্মকমূলক কাজের জন্য  বারবারই এই সংগঠনটি বিতর্কে জড়িয়েছে

মুর্শিদাবাদে অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: মুর্শিদাবাদে অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। শুধু এই জেলায় নয়, সংগঠনটি মালদহ, উত্তর দিনাজপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে অশান্তি পাকানোর ছক কষেছে। হিংসাত্মকমূলক কাজের জন্য  বারবারই এই সংগঠনটি বিতর্কে জড়িয়েছে। ওয়াকফ ইস্যুতে তারা বহুদিন ধরেই জমি তৈরি করছিল। হিংসাত্বমূলক কাজ করার আগে তারা নিজেদের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক করেছে। গোয়েন্দারা এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে। 

Advertisement

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এর আগে এনআরসি কাণ্ডের সময় এই নিষিদ্ধ সংগঠনটিই  লালগোলা, রেজিনগর সহ বিভিন্ন রেলস্টেশনে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছিল। সেই সময় রাজ্যজুড়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল তারা। সংগঠনটির আঁতুড়ঘর সামশেরগঞ্জ। বহু বছর ধরেই তারা এই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। সংগঠনের নেতারা এলাকায় জনসংযোগ বাড়ানোর জন্য সারা বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে থাকে। টাকা খরচ করে তারা নানা ধরনের সামগ্রী বিলি করেছে। সামশেরগঞ্জের পাশাপাশি লালগোলাতেও  তারা বহু বছর ধরেই সংগঠন বিস্তারে কাজ করেছে। বিভিন্ন ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে  রাজ্যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এনআরসি আন্দোলনের সময়ও তারা আন্দোলনকারীদের ভিড়ে মিশে বিভিন্ন জেলায় তাণ্ডব চালিয়েছিল। ওয়াকফ  ইস্যুতেও তারা একইভাবে সক্রিয় রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলায় নেটওয়ার্ক বিস্তারে কাজ করে চলেছে। নিষিদ্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত তারা ব্যানার লাগিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন করেছে। কিন্তু, এখন তারা আন্দোলনকারীদের ভিড়ে মিশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সূতি সহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হওয়া অশান্তির মাস্টারমাইন্ড এই সংগঠনের নেতারাই। এক গোয়েন্দা অফিসার বলেন, ইডি দেশজুড়ে এই সংগঠনটির বিভিন্ন অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল। বহু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ করা হয়। তারপরও তাদের অর্থের অভাব হয়নি। বিভিন্নভাবে তারা অর্থ সংগ্রহ করে চলেছে। এই সংগঠনের সদস্যরা ৮-১০ বছর আগে অন্য একটি ব্যানারে কাজ করত।  সেই সংগঠনটিও নিষিদ্ধ করা হয়। পরে নাম বদলে তারা অন্য আরেকটি সংগঠন তৈরি করে। সেটিকেও হিংসাত্বমূলক কাজের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়াকফ ইস্যুতে রাজ্যের অনেক জায়গাতেই আন্দোলনের রাশ এখন তাদের হাতে চলে গিয়েছে। এনআরসি আন্দোলনের সময়ও ঠিক এমনটাই হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের এই আইনের প্রতিবাদে সেই সময় মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলার প্রতিবাদীরা আন্দোলনের প্রথমে শামিল হয়েছিল। পরে তাদের ভিড়েই এই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতারা মিশে যায়। তারা আন্দোলন ধ্বংসাত্মক করে তোলে। ঠিক একই কায়দায় ওয়াকফ ইসুতেও তারা ময়দানে নেমেছে। 
পুলিস জানতে পেরেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনটি অল্পবয়সীদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে। ১৬ থেকে ২২ বছরের বহু যুবককে তারা এই সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের সামনে রেখেই হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন নেতাকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ