দুবাই: মাঝ আকাশে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে সেটি ‘ক্র্যাশ’ করানোর চেষ্টা করছিলেন ওমানি পাইলট। ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের মরণপণ লড়াই তা হতে দেয়নি। তাঁর সৌজন্যেই শেষপর্যন্ত প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু। বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনা পরম্পরার সঙ্গে ভীষণ মিল নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল-কায়েদার বিমান হামলার। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রত্যেকের বক্তব্যেই ভেসে এসেছে ৯/১১ জঙ্গি হানার প্রসঙ্গ। দু’জনেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন, ‘এক ভারতীয়ের বীরত্বেই এড়ানো গিয়েছে ৯/১১-র ধাঁচে আরও এক হামলা।’ গুরুতর জখম স্মিতকে ‘হিরো’-র মর্যাদা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তাঁকে আক্রমণকারী ওমানি পাইলট কোনো জঙ্গি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কি না, তা জানতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পৃথক তদন্ত করছে সৌদি আরবও।
স্মিতকে ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের হাসপাতাল থেকে এয়ারলিফট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দুবাইতে। সেখানেই তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা হবে। ভারতীয় পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে প্রশাসন। স্মিতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় পাইলটের বীরত্বের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য লড়াই করেছে। তাঁর বীরত্বের জন্যই এতগুলি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। আমি তাঁর অদম্য মনোবলকে কুর্নিশ জানাই। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর আমাদের হিরো।’ অন্য একটি অনুষ্ঠানে এই ঘটনাকে ‘৯/১১-র ধাঁচে হামলা’ বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘গতকালের ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিত প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে। আজ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, এক ভারতীয়র জন্য ৯/১১-র ধাঁচে হামলা রুখে দেওয়া গিয়েছে। স্মিত গোটা বীরত্ব গোটা দেশের গর্ব।’ গুজরাত প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্মিতকে ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা’ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। এদিন মুম্বইয়ের তিলক নগরে স্মিতের বাড়ির সামনে জাতীয় পতাকা হাজির হয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। সেখান থেকেই দাবি ওঠে, বীরত্বের জন্য স্মিতকে শৌর্য পুরস্কার দিক কেন্দ্র। এমনকি ভারতরত্ন দেওয়ার কথাও বলেছেন কয়েকজন।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিয়ো মেসেজে বলেছেন, ‘মাঝ আকাশেই অন্য পাইলটকে আক্রমণ করেছিল কো পাইলট। বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা করছিল সে।’ নেতানিয়াহুর মতে, পকেট ছুরি দিয়ে নয়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বিমানে কাচ ভাঙার জন্য থাকা কুঠার দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল স্মিতকে। সিএনএনকে দেওয়া অন্য একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘মচ্ছর ও অন্যান্য যাত্রীদের জন্যই ৯/১১-র পুনরাবৃত্তি হয়নি।’ তাঁর আরও দাবি, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এমন কোনো ঘটনা ঘটানোই ওই ওমানি পাইলটের উদ্দেশ্য ছিল। যদিও নির্দিষ্ট কোনো ভবনকে লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না, সেবিষয়ে আলোকপাত করেননি তিনি। এড়িয়ে গিয়েছে নেপথ্যে ইরানের ভূমিকা নিয়ে করা প্রশ্নও।
ঘটনাটি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় ওই কো-পাইলট একজন জঙ্গি কিংবা উন্মাদ। ভারতীয় পাইলটকে কোপ মেরেছে সে। ভারতীয় পাইলটের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু সে একজন হিরো।’