Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেন্নাইয়ের জৈন মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে ৯০ ফুটের শ্বেতশুভ্র পুজো মণ্ডপ

বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। বিশালাকার মণ্ডপ মোটা ত্রিপল দিয়ে ঢাকা দেওয়া আছে।

চেন্নাইয়ের জৈন মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে ৯০ ফুটের শ্বেতশুভ্র পুজো মণ্ডপ
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। বিশালাকার মণ্ডপ মোটা ত্রিপল দিয়ে ঢাকা দেওয়া আছে। মণ্ডপের ভিতরে প্লাইউডের পাটাতনে বসে একনাগাড়ে কাঠের কাজ করে চলেছেন জনা দশেক শিল্পী। আরও ১০জন শিল্পী মণ্ডপের ছাদে ফ্রেমের অতিরিক্ত অংশ কেটে বাদ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বহরমপুরের খাগড়ায় হরিবাবুর ঢালুর পুজোর নির্মীয়মাণ মণ্ডপে এমনই ছবি দেখা গেল। প্রতিবছরই এই পুজোয় জৌলুস থাকে। থিমের মণ্ডপ ও বিশাল প্রতিমা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। আয়োজকদের নিত্যনতুন থিমের ভাবনা দর্শনার্থীদের অবাক করে দেয়।

Advertisement

হরিবাবুর ঢালুতে এই পুজো ৬৬তম বর্ষে পা দিল। উদ্যোক্তারা জানালেন, গতবছর তাঁরা ‘বাহুবলী’ থিম করে চমক দিয়েছিলেন। এবার চেন্নাইয়ের সুব্রত নবগ্রহ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়া হবে। ওই জৈন মন্দিরের আদলে ৯০ফুট উচ্চতার শ্বেতশুভ্র মণ্ডপ দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলেই পুজোয় আয়োজকরা আশাবাদী। মণ্ডপের ভিতর প্রায় ২৫ফুট উঁচু ও ৩৪ফুটের বেশি চওড়া প্রতিমা হবে। এই বিশালাকার মাটির প্রতিমার পাশে আরও একটি ছোট সাবেকি প্রতিমা পুজো হবে। মণ্ডপের ভিতরেই শিল্পীরা দু’টি প্রতিমা তৈরি করছেন। মণ্ডপ পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় আছেন কৃষ্ণপদ হালদার।
বহরমপুর শহরের অন্যতম ঘিঞ্জি এলাকা খাগড়া। সেখানেই ছোট্ট একটুকরো মাঠে সুন্দর করে পুজো আয়োজন করা হচ্ছে। চারদিকে ফ্ল্যাটবাড়ি মাথা তুলেছে। তার মাঝেই বিশালাকার মণ্ডপটি ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। উল্টোরথের দিন খুঁটিপুজো সেরে শিল্পীরা জোরকদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। রাত জেগে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।
কর্মকর্তা অরিন্দম দাস বলেন, বহরমপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে এখানে সুব্রত নবগ্রহ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। সাদা ধবধবে মণ্ডপে সূক্ষ্ম কারুকার্য থাকবে। মণ্ডপে ঝাড়বাতি সহ মানানসই আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। পুজোর বাজেট প্রায় ১৮লক্ষ টাকা। তিনি জানান, প্রতিবছর পুজোর আগে বৃষ্টি হয়। সেজন্য এবার আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যখন বৃষ্টি হচ্ছে না, তখন মণ্ডপের বাইরের অংশের কাজ হচ্ছে। আর বৃষ্টি হলে মণ্ডপের ভিতরের কাজ সারছেন শিল্পীরা। এখন প্রতিদিন ২৭-২৮ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন। পুজো কমিটির সদস্য পরিমল কুণ্ডু ও বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে এই পুজো আয়োজন করি। দর্শনার্থীদের জন্য থিমভাবনায় অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করি। আশা করছি, এবারও আমাদের দুর্গাপুজো মানুষের মন জয় করে নেবে। • চলছে প্রস্তুতি। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ