নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে ৯৯.০৫ শতাংশ ভোটার ইনিউমারেশন ফর্ম পেয়ে গিয়েছেন। তবে, এক শতাংশের কম ভোটারের কাছে বিএলওরা এখনও পৌঁছতে পারেনি। অর্থাৎ, প্রায় ৪০ হাজার ভোটারকে হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছেন বিএলওরা। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩২০জন ফর্ম পেয়ে গিয়েছেন। বাকি ৪০হাজারের মধ্যে বহু মৃত ভোটার থাকতে পারেন। এছাড়া, অনেকেই এই জেলা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তাঁদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাউকে পাওয়া না গেলে সেই বাড়িতে বিএলওরা তিনবার যাবেন। তারপরও তাঁদের নাম না পাওয়া গেলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৪৫০৬জন বিএলও এসআইআরের কাজ করছেন। ফর্ম বিলির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার ফিলআপ করা ফর্ম জমা নেওয়ার পালা। সেগুলি পরে অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড হবে। এই সমস্ত কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পূর্ণ করার জন্য বিএলওদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায়, তার জন্য সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলার বাসিন্দাদের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য এসডিও, বিডিও অফিসে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। এছাড়া, হেল্পডেস্ক করা হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, খসড়া তালিকা প্রকাশের পরও ভোটাররা তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অনেকে বাইরে থাকেন। তাঁরা অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করতে পারেন। তবে, কোনও মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থাকবে না। কমিশন থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, কোনও বুথে মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থেকে গেলে তার দায়ভার এলাকার বিএলওকে নিতে হবে। কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে এফআইআর করা হতে পারে। আরএক আধিকারিক বলেন, বিএলওদের সঙ্গে বিএলএরা ঘুরছেন। কোথাও মৃত ভোটারের নাম তালিকায় রাখার জন্য বিএলওদের চাপ দেওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কোনওভাবেই লুকিয়ে নাম তোলা যাবে না। খসড়া তালিকা প্রকাশ্যে আনা হবে। সেই সময় রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ জানাতে পারবে। যদি দেখা যায়, কোনও বিএলও ইচ্ছাকৃতভাবে তালিকায় নাম রেখেছেন, সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলায় কন্ট্রোল রুমগুলিতে বুধবার পর্যন্ত ৩০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। বেশ কয়েকটি জায়গায় বিএলওরা বাড়ি বাড়ি যাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। তৎক্ষণাৎ তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদেরই দ্বায়িত্ব সঠিকভাবে ফর্ম ফিলআপ করা। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ের ছবি দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়। ফর্মে কেউ সই করতে না চাইলে সেক্ষেত্রে ‘রিফিউস সাইন’ বলে উল্লেখ করতে হবে।