নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাদ পড়ল ৯৬ হাজার ৪৭৬ ভোটারের নাম। জানা গিয়েছে, ফি-বছর ভোটার তালিকা সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ হয়। তবুও বিরাট সংখ্যক মৃত, স্থানান্তর এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম তালিকায় রয়ে গিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত এই জেলায় ৯৪.৭শতাংশ ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ হয়েছে। সমস্ত কাজ ১০০শতাংশ হলে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে বলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা মনে করছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, এপর্যন্ত ৯৪.৭শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজেশন হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৪৭৬ নাম বাদ পড়েছে। মোট ভোটারের ১.৪শতাংশ নন ম্যাপিংয়ের মধ্যে রয়েছে।
এসআইআরে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির সময়ই বুথে বুথে প্রচুর সংখ্যক মৃত, স্থানান্তর, ডুপ্লিকেট এবং মিসিং ভোটারের নাম সামনে এসেছিল। মোট ভোটারের সংখ্যা ৪২লক্ষ ভোটার ৬৮হাজার। বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সময় প্রায় ১লক্ষ ৩০হাজার ফর্ম বিলিই করা যায়নি। এরপর নির্বাচন কমিশন দরজা বন্ধ থাকা বাড়িতেও ইনিউমারেশন ফর্ম দিয়ে আসার নির্দেশ দেয়। সেইমতো বিএলওরা একাধিকবার ঘুরে এরকম বেশকিছু বাড়িতে ফর্ম দিয়ে এসেছেন। কিন্তু ডিজিটাইজেশনের কাজ চলাকালীন মৃত, স্থানান্তর, নিখোঁজ ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। সেইসব নাম বাদ পড়ছে।
পাঁশকুড়া শহরের নারান্দা নিউ প্রাইমারি স্কুলের ২৬৪নম্বর বুথে মৃত ৬৮জন, স্থানান্তর হয়ে যাওয়া ২৫জন এবং দু’জায়গায় নাম থাকা আরও তিনজন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। কোলাঘাট ব্লকের আমলহাণ্ডা পঞ্চায়েতের ১৩৩নম্বর বুথেও বাদ পড়েছে ৫৯জন মৃত ভোটার। তমলুক পুরসভার আবাসবাড়ি ২৩৬নম্বর বুথে মৃত, স্থানান্তর ও ডুপ্লিকেট ৪০ ভোটারের নাম বাদ। তমলুক ব্লকের পিপুলবেড়িয়া-১ পঞ্চায়েতের ২১৭নম্বর কলাতলা বুথে মৃত ৫০, স্থানান্তরিত সাত এবং ডুপ্লিকেট একজন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তমলুক পুরসভার ১৮নম্বর ওয়ার্ডের ২৬৮নম্বর চককামিনা বুথে মোট ভোটার ১৩১৪জন। তার মধ্যে ৫৬জন মৃত ও স্থানান্তর হওয়া ভোটারের নাম কাটা পড়েছে।
প্রতিবছর ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হলেও মৃত, ডুপ্লিকেট, মিসিং এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম থেকে গিয়েছে। কোনও কোনও বুথে ৮-১০ বছর আগে মৃতদের নাম ছিল। প্রশাসনিক গাফিলতিই এর জন্য দায়ী। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বেশকিছু অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। যেমন, নন্দীগ্রাম-১ব্লকের দাউদপুর গ্রামপঞ্চায়েতের নয়নান বুথের শেখ মফিজুল ইসলামের অভিযোগ, তাঁর ভাইপো তাঁকে বাবা বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিল। এমনকি, ইনিউমারেশন ফর্মেও তাঁকে বাবা বানিয়েই তথ্য আপলোড করেছে। আবার, মহিষাদল ব্লকের রাজারামপুর গ্রামের পবিত্র দাসঅধিকারীর অভিযোগ, তাঁর বাবা মৃত তপন দাসঅধিকারীকে ভুয়ো স্বামী বানিয়ে বাংলাদেশের খুলনার এক যুবতী ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। এধরনের প্রচুর অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এসব নিয়ে শুনানি হবে।