শ্রীনগর: রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে মনোনীত হয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে। কিন্তু এমপি ল্যাডের বরাদ্দ টাকার ৯৪ শতাংশই খরচ করেছেন উত্তরপ্রদেশে! এর পরেই বিজেপি সাংসদ গুলাম আলি খাতানাকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে। সাংসদকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিডিপি।
২০০৮ সালে বিজেপিকে যোগ দেন খাতানা। ২০২২ সালে তাঁকে জম্মু-কাশ্মীর থেকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়। তিন বছরে সাংসদ এলাকা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ হয় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে ১০ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকাই তিনি খরচ করেছেন উত্তরপ্রদেশের জন্য। খাতানার এমপি ল্যাডের টাকায় তৈরি মোট ১৭৬ প্রকল্পের মধ্যে ১৩৯টিই হয়েছে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে। তিনটি পিলভিটে এবং একটি করে প্রকল্প পেয়েছে ওই রাজ্যেরই বদায়ুন ও চন্দৌলি। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের কপালে জুটেছে মাত্র ৩২টি প্রকল্প। যার জন্য খরচ হয়েছে মাত্র ৯৪ লক্ষ টাকা।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সাংসদকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের শাসকদল এনসি। মুখপাত্র তানভীর সাদিক বলেছেন, ‘যদি উত্তরপ্রদেশের জন্যই ৯৪ শতাংশ বরাদ্দ খরচ হয়, তবে জম্মু-কাশ্মীর থেকে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করার কারণ কী? জম্মু-কাশ্মীরের মানুষদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’ একধাপ এগিয়ে পিডিপি মুখপাত্র আদিত্য গুপ্তা বলেছেন, ‘এটা বিজেপির মডেল। ভোট দেয় জম্মু, কিন্তু বরাদ্দ যায় উত্তরপ্রদেশে। নিজেদের সাংসদ-বিধায়করাই জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’ পালটা বিজেপি সাংসদের সাফাই, ‘রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ হিসাবে আমি দেশের যে কোনো এলাকার জন্য আমার এমপি ল্যাডের টাকা খরচ করতে পারি।’