সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে জঙ্গলখাস ৩৯৫ মৌজার সাড়ে ৯০০ হেক্টর বনভূমি পুরোপুরি বেদখল হয়ে গিয়েছে। খাতায়কলমে বনবিভাগ এই তথ্য দিলেও বৃহত্তর এই বনাঞ্চল জুড়ে ফ্ল্যাট, আবাসন, বসতবাড়ি তৈরি হয়েছে। এত বড় একটি বনাঞ্চল কীভাবে এলাকা বাসিন্দারা রায়তি সত্ত্ব পেল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই নিয়ে ঝাড়গ্রামের এডিএফও অনুরাগ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ডিএফওর সঙ্গে কথা বলুন। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও উত্তর দেননি।
তবে ঝাড়গ্রামের বিএল অ্যান্ড এলআরও কল্লোল বিশ্বাস বলেন, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট সম্ভবত সিএস রেকর্ড ধরেই এই হিসেব দিচ্ছে। তার পরবর্তী সময়ে অনেকগুলি সার্ভে হয়েছে। ১৯৫৩ সালে ডিভিশনাল সার্ভে ও আশির দশকে এলআর সার্ভে হয়েছে। সার্ভের পরবর্তীকালে ভূমির চরিত্র বদলেছে। কোনও কোনও জায়গায় রায়ত জমি ও কোনও কোনও জায়গায় দখল সত্ত্ব উঠে এসেছে। সার্ভেগুলির সবকিছু দেখে সেটেলমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। আজ থেকে ১০০ বছর পিছিয়ে দেখলে গোটা ঝাড়গ্রাম এলাকাটি জঙ্গল ছিল। সম্প্রতিকালের যা স্ট্যাটাস সেটাও দেখা উচিত। আমার মনে হয়, সিএস রেকর্ড ধরেই ফরেস্ট এই তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম শহরের এক বাসিন্দা ২০১৯ সালে জুলাই মাসে জঙ্গলখাস ৩৯৫ মৌজায় বনভূমির পরিমাণ কত তা জানার জন্য বনদপ্তরের কাছে ‘তথ্য জানার অধিকার আইন’-এ আবেদন করেন। ঝাড়গ্রামের ডিএফও সরকারিভাবে জানান (মেমো নম্বর ১২৯১/২৮, তারিখ ৩০.৭.২০১৯) ওই মৌজায় মোস্ট ফরেস্ট ল্যান্ড হল ৯৫৩.২৫ হেক্টর। বৃহত্তর এই বনাঞ্চল ঝাড়গ্রাম পুরসভার মধ্যে পড়ে। তাহলে কি মাত্র ৬ বছরের মধ্যে এত বড় বনাঞ্চল বেদখল হয়ে গেল? বাসিন্দারা বলছেন, বহু বছর ধরেই শহরের এই জায়গায় ঘরবাড়ি, ফ্ল্যাট ও বসতি গড়ে উঠেছে। বাসিন্দারা ভূমিদপ্তর থেকে রায়তি সত্ত্ব পেয়েছেন। জমি কারবারিদের মধ্যস্থতায় এই জায়গা কেনাবেচা হয়েছে। শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, বনদপ্তর তাদের জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে দেখেও পদক্ষেপ করেনি। বাম জমানা থেকেই অবাধে এই জায়গায় বসতি গড়ে উঠেছে। এই নিয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক তথা ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপকুমার সরকার বলেন, আমি সে সময়ে যা শুনেছিলাম, ঝাড়গ্রামের এই বনাঞ্চল গভর্নমেন্ট থেকে ১০০০ একর জায়গা আরআর ডিপার্টমেন্টকে দেওয়া হয়েছিল। এই জমি ছিল ডিএমের অধীনে। বন বিভাগ থেকে জায়গা ডিএমকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তারপরে অনেকগুলি হাত বদল হয়েছে। আমার মনে হয়, বনবিভাগ সিএস রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী বনভূমির পরিমাণ দিয়েছে।