সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সম্প্রতি কলকাতার এক হোটেলে অগ্নিকাণ্ড টনক নড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনের। পর্যটন কেন্দ্র তারাপীঠও কার্যত আগ্নেয়গিরি হয়ে রয়েছে। তীর্থভূমিতে পাঁচশোর কাছাকাছি বহুতল লজের ৯০ শতাংশেরই ফায়ার লাইসেন্স নেই । দমকলের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এত লজ, হোটেল ও রেস্তরাঁ চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পর্যটকরা। এতে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় মার খাচ্ছে। তেমনি জীবনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে পর্যটকদের। এমত অবস্থায় সোমবার টিআরডিএ অফিসে লজ, হোটেল ও রেস্তরাঁ মালিকদের নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন প্রশাসনের কর্তারা। শুধু ফায়ার লাইসেন্সই নয়, সম্প্রতি তারাপীঠের বিভিন্ন হোটেলে ঘটে যাওয়া ঘটনাও তীর্থভূমির গরিমা নষ্ট করছে। বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে।
তারাপীঠ মন্দিরকে কেন্দ্র করে গজিয়ে ওঠা লজ ও হোটেলের সংখ্যা পাঁচশোর কাছাকাছি। নিয়ম বর্হিভূত ভাবে অলিগলিতে একটি লজের গা ঘেঁসে গড়ে উঠেছে আরেকটি লজ। রাস্তা এতটাই সঙ্কীর্ণ যে দমকলের গাড়ি ঢোকার কোনও প্রশ্নই নেই। সব থেকে দুর্বিসহ অবস্থা ভিআইপি রোড, এসবিআই ব্যাঙ্কের সামনে, মুণ্ডমালিনী তলা, দ্বারকা নদের ব্রিজ সংলগ্ন সহ একাধিক এলাকা। একেবারে জতুগৃহে পরিণত হয়েছে ওই এলাকাগুলি। পুকুর জলাশয়গুলিও চলে গিয়েছে জমি হাঙরদের পেটে। ফলে আগুন লাগলে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না। অধিকাংশ লজ ও হোটেলের নেই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। নেই সরাই লাইসেন্সও। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শুধুমাত্র পঞ্চায়েতের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে জাঁকিয়ে ব্যবসা করছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী। এতদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওইসব হোটেল বা লজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি। সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক জায়গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে তারাপীঠ প্রশাসন।
গত ১৪ মে মহকুমা শাসক হোটেল ও লজ অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি পাঠিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে দমকলের ছাড়পত্রর জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে বলেন। কিন্তু সূত্রের দাবি, আটদিন পরও দমকলে আবেদন জমা করার গতি অত্যন্ত ধীর। দমকলের এক আধিকারিক বলেন, অনেকে আবার কলকাতা থেকে দালাল মারফত দমকল দপ্তরের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট জোগাড় করেছেন। যার মধ্যে অধিকাংশই জাল। প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা ব্যবসা করছেন। পর্যটকদেরও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তারাপীঠ দমকলের ওসি নীলাদ্রি মজুমদার বলেন, ৯০ শতাংশ লজ ও হোটেলের দমকল দপ্তরের ছাড়পত্র নেই। অনেকে আবেদন করছেন। ২৬ মে সেই আবেদনের স্ক্রুটিনি করা হবে। তিনি বলেন, হাতেগোনা কয়েকটি বড় লজ, হোটেলের লাইসেন্স আছে। ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এর আগে একাধিক হোটেলে শট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। কিন্তু তারপরও হুঁশ ফেরেনি ব্যবসায়ীদের। তাই এবার কড়া হচ্ছে প্রশাসন।
মহকুমা শাসক বলেন, আগামী সোমবার টিআরডিএ অফিসে ফায়ার, সরাই লাইসেন্স ও সম্প্রতি তারাপীঠে হোটেলে বিভিন্ন অপকর্ম রোধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে লজ ও হোটেলগুলিকে। অন্যথায় কড়া পদক্ষেপ করা হবে।