নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মশ্রী প্রকল্পে রেকর্ড শিলিগুড়িতে। প্রশাসন সূত্রে খবর, মাত্র তিন মাসে এই প্রকল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮৪৮ শ্রমিকের। তাঁদের অধিকাংশ কেন্দ্রের অসহযোগিতায় বন্ধ ১০০ দিনের কাজের শ্রমিক। কর্মদিবস তৈরির হার প্রায় ৭০ শতাংশ। এতে বাস্তবায়িত হয়েছে প্রায় ৭০০টি প্রকল্প। এক্ষেত্রে মহকুমায় শীর্ষে মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষের ব্লক নকশালবাড়ি। সোমবার এ ব্যাপারে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন সভাধিপতি। তিনি এই প্রকল্পে রাজ্যে এক নম্বর স্থান দখলের জন্য আধিকারিকদের ঝাঁপানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর।
সভাধিপতি বলেন, তিন মাসে মহকুমায় কর্মশ্রী প্রকল্পের অগ্রগতি অনেক জেলাকেই পিছনে ফেলে দেবে। আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পে রাজ্যে শীর্ষস্থান দখল করাই আমাদের টার্গেট।
১০০ দিনের কাজে কেন্দ্র বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার পর কর্মশ্রী প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন পরিষদের সভাধিপতি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পে ৮৪৮ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। তিন মাসে ওই শ্রমিকদের দিয়ে রূপায়ণ করা হয়েছে ৬৯৬ টি প্রকল্প। সেই তালিকায় বাংলার বাড়ি, রাস্তা, নিকাশি নালা, নদীবাঁধ তৈরি প্রভৃতি রয়েছে। এর বাইরে মিশন নির্মল বাংলায় জঙ্গল সাফাই, সরকারি বিভিন্ন অফিসে ক্যান্টিন পরিচালনার মতো কাজও রয়েছে। এতে কর্মদিবস হয়েছে ৫৮ হাজার ৭৯৬ দিন, যা ৬৯.৩৩ শতাংশ। শ্রমিকদের মজুরি খাতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৭৮ টাকা।
ওই শ্রমিকদের অধিকাংশই ১০০ দিনের প্রকল্পে জড়িত ছিলেন। আর কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক। ভিনরাজ্য থেকে কাজ হারিয়ে এখানে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কাজ পেয়ে ওই শ্রমিকরা রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে বেকার হয়ে পড়েছিলাম। এখন রাজ্য সরকারের দৌলতে কাজ পেয়ে বেঁচে আছি।
মহকুমায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে শীর্ষস্থানে নকশালবাড়ি ব্লক। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে ২২৫ শ্রমিকের। কর্মদিবসের হার ৭৬.১৯ শতাংশ ও প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে ২২২টি। এরবাইরে ফাঁসিদেওয়ায় ২৫৫ শ্রমিক তৈরি করেছেন ২০৬ প্রকল্প। কর্মদিবসের হার ৬৭.৯৩ শতাংশ। মাটিগাড়ায় ২২২ জন শ্রমিকের ১৭১টি প্রকল্প তৈরির মধ্য দিয়ে কর্মদিবস সৃষ্টির হার ৬৬.৮৮ শতাংশ এবং খড়িবাড়িতে ১৪৬ জন শ্রমিক ৯৭টি প্রকল্প তৈরি করায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার ৬৪.৯৭ শতাংশ।