সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মায়ের সঙ্গে বয়সের পার্থক্যে সন্দেহ। এবার এসআইআরের শুনানিতে তলব করা হল রামপুরহাটের বাসিন্দা প্রাক্তন বিচারককে। যা নিয়ে শুনানির লাইনে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ৮১ বছরের প্রাক্তন জেলা জজ।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মায়ের সঙ্গে বয়সের পার্থক্যে সন্দেহ। এবার এসআইআরের শুনানিতে তলব করা হল রামপুরহাটের বাসিন্দা প্রাক্তন বিচারককে। যা নিয়ে শুনানির লাইনে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ৮১ বছরের প্রাক্তন জেলা জজ।
রামপুরহাট পুরসভার ১০৭ পার্টের ভোটার সন্তোষকুমার রায় ও তাঁর বছর ৬৫-র স্ত্রী স্বর্ণলতা রায়। সন্তোষবাবু প্রাক্তন জেলা জজ দু’জনকেই এসআইআরের শুনানিতে শুক্রবার রামপুরহাট-১ ব্লক অফিসে তলব করা হয়েছিল। সন্তোষবাবুর মায়ের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়ায় সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। অন্যদিকে, শুনানিতে ডাকা হয় স্বর্ণলতাদেবীকেও। তিনি নো-ম্যাপিং ভোটার ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। লম্বা লাইনে কাগজপত্র হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বাড়িতে আধিকারিকদের যাওয়ার কথা। কিন্তু সন্তোষবাবু জানান, এই নিয়ে বিএলও তাঁদের কিছুই জানায়নি। তাই শুনানি কেন্দ্রে আসতে হয়েছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর শুনানি শেষে বেরিয়ে এসে সংবাদ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন প্রাক্তন বিচারক। তিনি বলেন, সরকার, দল না নির্বাচন কমিশনের সৌজন্যে আমাদের আসতে হয়েছে, জানি না। আমার যখন দেড় বছর বয়স, তখন মা মারা যান। বাবা আবার বিয়ে করেন। তারপর থেকে তিনিই আমার মা। তথ্যে মায়ের জায়গায় তাঁর নাম দিয়েছি। মায়ের সঙ্গে আমার বয়সের তফাৎ খুব বেশি নয়। সেটাই সন্দেহ কমিশনের। তার জন্যই শুনানিতে ডেকেছে। আমি কমিশনের লোকদের সন্তুষ্ট করতে সমস্ত নথিপত্র নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পেনশনের কাগজ ছাড়া কোনও নথি দেখল না। সাপোর্টিং ডকুমেন্ট তো দেখা উচিত। আমার প্রথম স্ত্রীও ছেলে ও মেয়েকে রেখে ব্রেনস্ট্রোকে মারা যান। মাত্র পাঁচবছর ঘর করেছিলেন তিনি। তখন ছেলের বয়স মাত্র ৮ মাস ছিল। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী স্বর্ণলতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। সেই সার্টিফিকেট ও আমার পেনশনের নমিনি হিসেবে যে স্বর্ণলতা রয়েছে, সেই কাগজপত্র দেখানো হলেও গ্রাহ্য করা হল না। স্ত্রীর নামে জমির দলিল চাইছিল। কিন্তু তার নামে ২০০৪ সালে তৈরি করা একটি বাড়ি ছাড়া কিছু নেই। স্ত্রীর ভাইদের ভোটারলিস্ট এবং ওই বংশের কাগজপত্র নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু মানল না। আমি কী বৃদ্ধ বয়সে প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াব? এরপরই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, কেন এই কষ্ট ভোগ করতে হবে? আমরা যারা ভারতে জন্মগ্রহণ করেছি, আমরা কি দেশে থাকার অধিকারী নই? আমাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা প্রশাসনের কর্তব্য। যা ১৯৪৭ সাল থেকে করেননি। এই দায়বদ্ধতা সব রাজনৈতিক দলেরও। আসন দখল করার খেলা চলছে। ভারতের সাধারণ মানুষের কথা ভাবা হচ্ছে না।