Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলাজুড়ে অপুষ্টির শিকার ৮০০ শিশু, মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি

নদীয়া জেলায় পুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে প্রায় ৮০০ জন শিশু। সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

জেলাজুড়ে অপুষ্টির শিকার ৮০০ শিশু, মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় পুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে প্রায় ৮০০ জন শিশু। সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। কারণ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পুষ্টির প্রশ্ন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ১৮টি ব্লকে গড়ে প্রতিটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন করে শিশু অপুষ্টির শিকার। সামগ্রিকভাবে এই হার জেলার মোট শিশুর মাত্র ০.২ শতাংশ।

Advertisement

নদীয়া জেলায় আইসিডিএস দপ্তরের অধীনে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত আসে প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার শিশু। এই বিপুল সংখ্যার মধ্যেই এই ৮০০ জন শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছে। প্রশাসনের মতে, এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই সমস্যার মোকাবিলায় একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কথায়, অপুষ্টির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কোথাও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাব তো কোথাও আর্থিক অনটন, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের অসুখ বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার প্রভাবও পড়ছে শিশুদের শরীরে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবও শিশুদের অপুষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর যৌথভাবে বিশেষ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করেছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এনে তাদের শারীরিক পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিশুদের শরীরে কোনও রোগ, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর জন্য আলাদা করে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা তৈরি হবে, যাতে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্য পুষ্টি উপাদানগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদিও এসআইআরের কারণে প্রাথমিকভাবে সেই কাজ শুরু করা না গেলেও ইতিমধ্যে তার রূপরেখা তৈরি হয়েছে।‌

এই গোটা প্রক্রিয়ায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে আইসিডিএস সেন্টারে নিয়ে আসা হবে। সেখানে নিয়মিত তাদের ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক বৃদ্ধির হার পরিমাপ করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা শিশুদের খাবার গ্রহণের বিষয়টি নজরে রাখার পাশাপাশি অভিভাবকদের পুষ্টি সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন করবেন।

প্রতিটি শিশুর জন্য একটি বিশেষ পুষ্টি চার্ট তৈরি হবে। ওই চার্টে শিশুটির বর্তমান পুষ্টিগত অবস্থা, শারীরিক বৃদ্ধি, চিকিৎসার অগ্রগতি ও খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নথিভুক্ত থাকবে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, সংখ্যার বিচারে সমস্যা বড় না হলেও, একটি শিশুও যাতে অপুষ্টিতে না ভোগে, সেটা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব। প্রশাসনের আশা, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ