নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: গেরুয়া শিবিরে পদত্যাগের হিড়িক অব্যাহত। বৃহস্পতিবার খড়িবাড়িতে বিজেপির বিভিন্ন শাখা সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন আরও আটজন কার্যকর্তা। এমন ‘স্রোত’ রুখতে ব্যর্থ স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁরা বৈঠক করে সমস্যা মেটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এদিকে, উত্তরবঙ্গের বহু বুথে কর্মীদের সক্রিয় করার কাজ থমকে বলে অভিযোগ। দু’দিনের কর্মশালায় এনিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
খড়িবাড়িতে রানিগঞ্জ-বিন্নাবাড়ি মণ্ডল পরিচালনা নিয়ে কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে বিজেপির। দলীয় সূত্রে খবর, এদিন বুথ সভাপতি, শক্তিপ্রমুখ, যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে আটজন পদত্যাগ করেছেন। তাঁদেরও ক্ষোভ মণ্ডল সভানেত্রীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে সাতদিনে সংশ্লিষ্ট মণ্ডল থেকে পদত্যাগ করলেন ১৮ জন। মণ্ডলের পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক তাপস ঝা বলেন, বালাসন ও মহানন্দা নদীর হড়পা বান যেমন হয়, দলেও পদত্যাগ ঘিরে সেরকম বান এসেছে। যতদিন পর্যন্ত অযোগ্য সভানেত্রীকে পদ থেকে সরানো না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই স্রোত থামবে না। শীঘ্রই আরও একঝাঁক নেতা-নেত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছে সংশ্লিষ্ট মণ্ডলের শাসক গোষ্ঠী। মণ্ডলের সভানেত্রী রিনা মণ্ডল বলেন, যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের একাংশ দলের কোনও কাজই করেন না। এতে দলের তেমন প্রভাব পড়বে না।
তাছাড়া বেশ কয়েকজনকে ভুল বুঝিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তা হলেও সমগ্র বিষয় দলের জেলা কমিটিকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসা হবে।
সভানেত্রীর বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক তাপস। বলেন, একদা এখানে ঝান্ডা ধরার লোক ছিল না। তখন থেকে দল করছি। আমাদের লড়াই আন্দোলনের ফলেই এখানে দল বড় হয়েছে।
এদিকে, দু’দিনের উত্তরবঙ্গ জোনাল কর্মশালা এদিন শেষ হয়। কর্মশালায় দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসাল, রাজ্যের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বুথ রিভিউয়ের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বহু বুথের কর্মীরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে মণ্ডল সভাপতিদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে খবর। এছাড়া বাড়ি বাড়ি যাওয়া, গ্রামবাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।