নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষকে খাদ্যের নিরাপত্তা দিতে তাঁর সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে সেখানে জানিয়েছেন তিনি। যেমন, ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পে রাজ্যের ৯ কোটি মানুষকে রেশনের মাধ্যমে বিনা পয়সায় খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। দুয়ারে রেশন, চাষিদের কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ ধান কেনা, মা ক্যান্টিন, সুফল বাংলা স্টল থেকে খোলা বাজারের থেকে কম দামে সব্জি, ফল বিক্রির ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে, কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রকও একইভাবে তাদের কার্যকলাপ তুলে ধরেছে তথ্য ও পরিসংখ্যান সহ। সেই তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে যত মানুষকে খাদ্যশস্য দেওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট করা হয়েছে, বাস্তবে তা দেওয়া হচ্ছে না। দেশের মোট ৮১ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষের খাদ্য সুরক্ষার আওতায় থাকার কথা। সেখানে আছে ৮০ কোটি ৫৬ লক্ষ মানুষ। অর্থাৎ প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ খাদ্য সুরক্ষার সুফল পাচ্ছেন না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ভাণ্ডারে যে প্রচুর চাল-গম মজুত রয়েছে, সেটাও জানিয়েছে খাদ্যমন্ত্রক। কেন্দ্রীয় সরকারের মজুত ভাণ্ডারে ৩৭৭.৮৩ লক্ষ টন চাল ও ৩৫৮.৭৮ লক্ষ টন গম মজুত রয়েছে। ন্যূনতম যে পরিমাণ চাল-গম মজুত ভাণ্ডারে রাখতে হয়, এই পরিমাণ তার প্রায় দ্বিগুণ।
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পটিকে এখন ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’ বলা হয়। খাদ্য সুরক্ষা আইনে গ্রামের ৭৫ শতাংশ ও শহরের ৫০ শতাংশ মানুষকে খাদ্য সুরক্ষার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। ২০১১ সালের সেন্সাস ও আর্থ-সামাজিক সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রতি রাজ্যে কতজন খাদ্য সুরক্ষার আওতায় আসবেন, সেই কোটা নির্দিষ্ট হয়। এই নিরিখে মোট প্রাপক ৮১ কোটি ৩৫ লক্ষ নির্দিষ্ট করে ২০১৩ সালে প্রকল্পটি চালু করে কেন্দ্র। এরপর দেশের জনসংখ্যা অনেক বাড়লেও খাদ্য সুরক্ষা প্রাপকের কোটা বৃদ্ধি করা হয়নি। বেশ কয়েকটি রাজ্য তাদের নির্ধারিত কোটা পুরোপুরি পূরণ না করার জন্যই এই কমতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমবঙ্গ অবশ্য প্রথম থেকেই ৬ কোটি ২ লক্ষ মানুষের কোটা পূরণ করে দিয়েছিল। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ একাধিকবার বলেছেন, জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার জন্য রাজ্যের কোটা বৃদ্ধি করা দরকার। এনিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করা হলেও তারা কানে তোলেনি।
অনেক রাজ্য যেখানে তাদের কোটাই পূরণ করতে পারেনি, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে সব মানুষের জন্য বিনা পয়সায় খাদ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিলের টাকায়। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য অনেক রাজ্যে বহু গরিব মানুষ খাদ্য সুরক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ওই রাজ্যগুলিকে তাদের কোটা পূরণের জন্য বাধ্য করেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ানো হয়নি প্রাপকের সংখ্যাও।