নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আদালতের নির্দেশে বাড়ি ভাঙতে বুলডোজার পৌঁছেছিল। কিন্তু সেই বুলডোজার ঘিরেই শুরু হল বচসা। কিছুক্ষণের মধ্যে তা গড়াল হাতাহাতিতে। ভাড়াটিয়া উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সাঁকরাইলের পূর্বপাড়ায় এই ঘটনায় দু’পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের সকলকেই সাঁকরাইল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত পর্যন্ত ৫ জন সেখানে চিকিৎসাধীন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বপাড়ার ওই বাড়িতে প্রায় ১০টি পরিবার ভাড়ায় থাকে। বাড়ির মালিক দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের দাবিতে আদালতে মামলা চালাচ্ছিলেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর এদিন বাড়ির নির্দিষ্ট অংশ ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে আসা হয়। ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, যে অংশ ভাঙার নির্দেশ ছিল না, সেটিও ভাঙা হয়। একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ায় এক মহিলা আহত হন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হলে কয়েকজন জখম হন।
ভাড়াটিয়াদের একাংশের দাবি, তাঁদের কোনো নোটিস না দিয়েই বুলডোজার দিয়ে ঘর ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। যদিও বাড়ির মালিক সজল মণ্ডলের দাবি, হাওড়া আদালতের নির্দেশ মেনেই পুলিশের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলছিল। তাঁর কথায়, দুটি ঘর ভাঙার নির্দেশ ছিল, সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল। কিন্তু ভাড়াটিয়ারা কাজে বাধা দেন। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার জন্যই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্দেশের বাইরে কোনো অংশ ভাঙা হয়েছে কি না এবং সংঘর্ষের কারণ কী, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার নিন্দা করেছেন দক্ষিণ সাঁকরাইল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিজিয়া খাতুন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তাঁদের ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।