নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ট্রেন ধরার হুড়োহুড়ির জেরে রবিবার সন্ধ্যায় বর্ধমান স্টেশনে ফুট ওভারব্রিজে পদপিষ্ট হয়ে আটজন জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই মহিলা। জখমদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মাথায় ও বুকে আঘাত লেগেছে। একজনের মাথায় আঘাত লাগায় তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জখমদের মধ্যে দু’জনের আঘাত বেশি। যাত্রীদের দাবি, বিকেল ৫টা ১০মিনিটে একটি লোকাল ট্রেন ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকে। পাশের প্ল্যাটফর্মে একটি এক্সপ্রেস দাঁড়িয়েছিল। তার পাশের প্লাটফর্মেও একটি লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়েছিল। ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে লোকাল ট্রেনটি ঢোকার পরই হাওড়া যাওয়ার ট্রেন ছাড়বে বলে ঘোষণা করা হয়। তার ফলে ট্রেনে আসা ও ট্রেন ধরতে যাওয়া যাত্রীরা ওভারব্রিজ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শুরু হয়ে যায় ধাক্কাধাক্কি। ঠেলাঠেলির জেরে এক মহিলা ফুট ওভারব্রিজে পড়ে যান। তিনি পদপিষ্ট হন। তাতে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। মহিলা ও শিশুরা কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। সকলেই নিরাপদ জায়গা খোঁজেন। সেই সময় আরও কয়েকজন যাত্রী ওভারব্রিজে পড়ে যাওয়ায় পদপিষ্ট হন। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন ঢোকামাত্র ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন ছাড়ার ঘোষণার জন্যই এই বিপত্তি ঘটেছে।
যদিও রেল প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ওভারব্রিজে ভারসাম্য রাখতে না পেরে দু’জন যাত্রী পড়ে যান। আরপিএফ ও রেলের কর্মীরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। চিকিৎসকরাও সেখানে যান।
জখম ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হেমন্তী বিবি বলেন, হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেন ধরে বর্ধমান স্টেশনে নামি। সিঁড়ি দিয়ে ওভারব্রিজে ওঠার পরই দেখি, উল্টোদিক থেকে যাত্রীরা ট্রেন ধরার জন্য ছুটে আসছেন। তাতে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। দু’দিকের যাত্রীরাই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ধাক্কায় পড়ে যাই। কয়েকজন আমার উপর দিয়ে চলে যায়। অপর জখম যাত্রী পূজা দাস বলেন, শক্তিগড় যাওয়ার জন্য ৪নম্বর প্ল্যাটফর্মে লোকাল ট্রেন ধরতে যাচ্ছিলাম। ওই প্ল্যাটফর্মেই একটি লোকাল ঢুকেছিল। দু’দিক থেকে যাত্রীরা আসতে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। মাঝখানে বহু যাত্রী এক জায়গায় আটকে যান। ধাক্কা সহ্য করতে আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন পড়ে যান। অপর জখম যাত্রী জবা রাজবংশী বলেন, রেল আগে থেকে ঘোষণা করলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
এদিন জখমদের হাসপাতালে দেখতে যান বর্ধমান শহর তৃণমূল সভাপতি তন্ময় সিংহরায়। তিনি বলেন, বারবার যাত্রীরা পদপিষ্ট হওয়ার পরও রেলের হুঁশ ফিরছে না। ভবিষ্যতে সতর্ক না হলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। সন্ধ্যায় ও সকালের দিকে নিত্যযাত্রীদের ভিড় থাকে। যাত্রীদের চাপে প্রায়ই ওই ওভারব্রিজ অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
জখম যাত্রী সুমিতা দাস বলেন, ওভারব্রিজে ওঠার পরই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এদিন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত। একটা সময় মনে হয়েছিল, দমবন্ধ হয়ে মারা যাব। বরাতজোরে বেঁচে গিয়েছি।