নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: মাসের ৩০ দিনই কাজ। অথচ মজুরি মেলে মাত্র ১৯ দিনের। তার উপর তিন মাস ধরে সেই সামান্য মজুরিও মিলছে না। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ৭৪ জন অস্থায়ী কর্মী চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: মাসের ৩০ দিনই কাজ। অথচ মজুরি মেলে মাত্র ১৯ দিনের। তার উপর তিন মাস ধরে সেই সামান্য মজুরিও মিলছে না। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ৭৪ জন অস্থায়ী কর্মী চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন।
ঝাড়গ্রামের অস্থায়ী বন কর্মীদের বন সংরক্ষণ থেকে বন্যপ্রাণী রক্ষা, দাবানল মোকাবিলা-সহ একাধিক কাজ করতে হয়। বনবিভাগের স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কম। বনভূমি সংরক্ষণ ও হাতির উপদ্রব ঠেকাতে অস্থায়ী বন কর্মীদের কাজে লাগানো হয়। তিন মাস ধরে মজুরি না মেলায় অনেকে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। যার জেরে বনবিভাগের যাবতীয় কাজকর্মের ওপর প্রভাব পড়ছে। হাতির পালের হানায় বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় বেড়ে গিয়েছে।চলতি বছরে গত কয়েক বছরের তুলনায় সব চেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামগুলিতে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কিছুদিন আগেই বনমন্ত্রী জুলজিক্যাল পার্ক পরিদর্শন এসেছিলে না। বনমন্ত্রীকে সমস্যার কথা জানানোর চেষ্টা করেও কর্মীরা সফল হননি। এক মাস কাজ করলেও দৈনিক হিসেবে অস্থায়ী বন কর্মীদের ১৯ দিনের মজুরি দেওয়া হয়। আগে দীর্ঘদিন অস্থায়ীভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে বিটঅফিসগুলোতে স্থায়ীকর্মী হওয়ার সুযোগ মিলতো।বিগত সরকারের আমলে অস্থায়ী কিছু বন কর্মীকে চুক্তিভিত্তিক ‘অরণ্যসাথী’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। যদিও সেই সুযোগ সবার হয়নি।
বর্তমানে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলেও কাজের নিশ্চয়তা বা স্থায়ীকরণ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের এক অস্থায়ী বলেন, সামান্য মজুরিতে আমাদের সংসার চলে। তিন মাস ধরে সেই টাকাও না পাওয়ায় আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছি। তিরিশ দিনের কাজ করতে হয়, কিন্তু মাইনে পায় ১৯ দিনের। এই বিষয়ে মুখ খুললে কাজটাই চলে যাবে। মজুরি না পেয়ে বনবিভাগের বিট ও রেঞ্জার অফিসারদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। অপর এক কর্মী বলেন, বনভূমিতে গাছ রোপণ, হাতিদের এক লোকালয় থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও নানা কাজ আমাদের করতে হয়। বনবিভাগের স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা হাতে গোনা। যাতায়াত ও টিফিনের খরচ রয়েছে। মজুরি না পেলে কিভাবে কা জ করা সম্ভব। আবার মুখ খুললে কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হতে পারে। সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা টাকা জোগাড় করতে পারছিনা। ঝাড়গ্রাম জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, জেলার ৭৪ জন অস্থায়ী বনকর্মীদের আর্থিক সমস্যায় কথা জেলাশাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বনমন্ত্রীর কাছেও মজুরির বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখার জন্য ইমেল করা হয়েছে। পাশপাশি ৩০ দিনের কাজের মজুরি যাতে এই কর্মীরা পান সেটাও দেখার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বন বিভাগের আধিকারিকদের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য দিতে চাননি।