Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলায় এসআইআর শুনানিতে ৭৪ লক্ষের ভরসা আবাস শংসাপত্র, মিলছে এক ক্লিকে

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কেটে গিয়েছে তিন দিন। ২৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে শুনানির পর্ব।

বাংলায় এসআইআর শুনানিতে ৭৪ লক্ষের ভরসা আবাস শংসাপত্র, মিলছে এক ক্লিকে
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কেটে গিয়েছে তিন দিন। ২৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে শুনানির পর্ব। নোটিশ পেলেই নথিপত্র সহ হাজির হয়ে নিজেকে বৈধ ভারতীয় ভোটার প্রমাণ করতে হবে। ভোটাধিকার বজায় রাখতে শুনানির সময় জমা দিতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঠিক করে দেওয়া ১৩টি নথি বা শংসাপত্রের মধ্যে যে কোনও একটি। এগুলির মধ্যে একটি হল সরকারি প্রকল্পের আওতায় বাড়ি তৈরির অনুদানের শংসাপত্র (হাউস অ্যালটমেন্ট সার্টিফিকেট বাই গভর্নমেন্ট)। পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র এবং রাজ্যের প্রকল্প মিলিয়ে বাড়ি তৈরির অনুদান পাওয়া উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ৭৪ লক্ষ। ফলে এঁদের মধ্যে কারও শুনানিতে ডাক পড়লে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রমাণে অনায়াসে এই ‘হাউস অ্যালটমেন্ট সার্টিফিকেট’ দেখাতে পারবেন। কিন্তু এই সার্টিফিকেট মিলবে কীভাবে? মানুষকে সুরাহা দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই বন্দোবস্তই করেছে। এক ক্লিকে মিলছে আবাসের সার্টিফিকেট! শুক্রবারই পঞ্চায়েত দপ্তরের ওয়েবসাইটে একটি ‘লিঙ্ক’ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ক্লিক করে সামান্য সময়ে একেবারে নির্ঝঞ্ঝাটে নামিয়ে নেওয়া যাচ্ছে শংসাপত্র। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই শংসাপত্রেই থাকছে কিউ আর কোড। ফলে এই শংসাপত্র জাল করা কোনওভাবেই সম্ভব নয় বলে দাবি প্রশাসনিক মহলের। কারণ, ওই কোড স্ক্যান করলেই শংসাপত্রে থাকা তথ্য মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে সরকারের তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে। ফলে শংসাপত্রটি ‘বৈধ নয়’ বলে ফেলে দিতেও পারবেন না সংশ্লিষ্ট ইআরও বা এইআরও। 

Advertisement


পঞ্চায়েত দপ্তরের ওয়েবসাইট prd.wb.gov.in-এ ঢুকে নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করে ফোন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ওটিপির মাধ্যমে যাচাই হবে আবেদনকারীর ফোন নম্বর। তার পরেই নাম, ঠিকানা মিলিয়ে ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে সার্টিফিকেট। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘উপভোক্তারা এই সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য যাতে দুর্ভোগের মধ্যে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে আমাদের সরকার।’ 


কেন্দ্রের সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় তাদের অংশের টাকা দেওয়া বন্ধ করায় সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ করেই প্রান্তিক মানুষের জন্য ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। ইতিমধ্যে যার সুবিধা পেয়েছেন ১২ লক্ষ উপভোক্তা। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা পাবেন আরও ১৬ লক্ষ। অর্থাৎ বর্তমানে প্রথম পর্যায়ের এই ১২ লক্ষ মানুষ এক ক্লিকে শংসাপত্র হাতে পাবেন। বাকি ১৬ লক্ষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গেলে তাঁরাও এই শংসাপত্র ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এছাড়াও উপকৃত হবেন রাজ্যের নিজস্ব খরচে চলা ‘চা সুন্দরী এক্সটেনশন’ প্রকল্পের ২১ হাজার উপভোক্তা। এখানেই শেষ নয়। ২০১৬ সালের আগে ইন্দিরা আবাস যোজনার ১১ লক্ষ সুবিধা প্রাপক এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর ৩৪ লক্ষ উপভোক্তাও ডাউনলোড করতে পারবেন ‘হাউস অ্যালটমেন্ট সার্টিফিকেট’। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ