নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: আজ, বৃহস্পতিবার সারা রাজ্যের সঙ্গে ভাইফোঁটায় মেতে উঠবে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। কিন্তু ভাইফোঁটাতেও হাতির ভয় থাকছে। ভাই-বোনেদের সুরক্ষা দিতে স্পেশাল ডিউটি করবেন বনকর্মীরা। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় হুলাপার্টি থাকবে। হাতি থাকলেই সেই জঙ্গল ঘিরে রাখবেন বনকর্মীরা। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, শুধু মেদিনীপুর ডিভিশনে প্রায় ৭০টি হাতি রয়েছে। ইতিমধ্যেই জঙ্গল লাগোয়া বেশকিছু গ্রামে হাতির তাণ্ডব চালানোর খবর এসেছে। সেই এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালানো হবে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ধান পাকার সময় হয়ে এসেছে। তাই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশকিছু এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। রাতে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে হাতি আক্রমণ চালালে বড় বিপদ হতে পারে।
মেদিনীপুরের ডিএফও দীপক এম বলেন, বনকর্মীরা সজাগ রয়েছেন। উৎসবের দিনে একজনও যাতে সমস্যায় না পড়েন সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বনকর্মীরা স্পেশাল ডিউটি করবেন। পর্যাপ্ত হুলাপার্টিও রাখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, জঙ্গলমহলে হাতিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। হাতির হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। শুধু বাড়িঘর বা ফসলের ক্ষতি নয়, হাতির তাণ্ডবে মানুষের মৃত্যু বাড়ছে। জেলায় হাতির দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বনদপ্তর। জানা গিয়েছে, গত আর্থিক বছরে মেদিনীপুর ডিভিশনে হাতির হানায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও কয়েকশো হেক্টর জমিতে চাষের ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষতি হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। মেদিনীপুর ছাড়াও রূপনারায়ণ, খড়্গপুর, ঝাড়গ্রাম বন বিভাগ এলাকার চিত্রটা প্রায় একই।
গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, প্রায় সারা বছর ধরেই হাতি জঙ্গলে থাকছে। বহু মানুষের রোজগারের জন্য জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই জঙ্গলেই যেতে পারে না সাধারণ মানুষ। জঙ্গলে গিয়ে বহু মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। জঙ্গলের ভিতর খাবার না পেলেই চাষের জমিতে বা গ্রামের বাড়ি বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছে হাতির দল। হাতি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেলেও ফের ফিরে আসছে। দুর্গাপুজো তো বটেই, কালীপুজোয়ও ভয়কে সঙ্গী করেই ঠাকুর দেখতে যেতে হয়েছে।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর বন বিভাগ এলাকায় প্রায় ৭০টি হাতি রয়েছে। মূলত চাঁদড়া, পিড়াকাটা, আরাবাড়ি, লালগড় রেঞ্জ এলাকায় হাতি অবস্থান করছে। এই এলাকায় প্রচুর ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রূপনারায়ণ ডিভিশনে ছ’টি হাতি রয়েছে। গোয়ালতোড়, হুমগড় সহ বিভিন্ন রেঞ্জ এলাকায় হাতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। চাঁদড়া এলাকার বাসিন্দা চন্দনকুমার সাহা বলেন, সবসময় হাতির ভয়ে থাকতে হয়। বনদপ্তরের আরও তৎপর হওয়া দরকার। অনেকে সময়মতো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। ফাইল চিত্র