নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর মোট ৬৬টি জাতিকে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) জন্য সংরক্ষণের আওতায় এনে বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস ওয়েলফেয়ার দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—সরকারি পদ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ৬৬টি জাতি মোট ৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। এই ৬৬টি জাতির নামও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরি ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরতির ক্ষেত্রে ওবিসি সংরক্ষণ আছে। এতদিন ওবিসি এ এবং বি শ্রেণিতে যথাক্রমে ১০ এবং ৭ শতাংশ সংরক্ষণ ছিল। এই ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হল। নতুন নিয়মে সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে আরো ১০ শতাংশ বেশি সুবিধা পাবেন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ২২ মে এই সংক্রান্ত রায় দেয়। তাতে বলা হয়, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যে ৬৬টি জাতি ওবিসি তালিকায় ছিল শুধুমাত্র তারাই সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। ওবিসি এ এবং বি শ্রেণির জন্য যথাক্রমে ১০ ও ৭ শতাংশ সংরক্ষণ সংবিধানসম্মত নয়। বলা হয়েছিল হাইকোর্টের রায়ে।
প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের রায়ের পর তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। সেখানে হাইকোর্টের রায়ের উপর একটি স্থগিতাদেশ নেওয়া হয়। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর সুপ্রিম কোর্টে লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মামলাটি তারা প্রত্যাহার করে নিতে চাইছে।
রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের একেবারে শেষদিকে ২০১০ সালে ওবিসি জাতিগুলিকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করে মোট সংরক্ষণ ৭ থেকে বাড়িয়ে ১৭ করা হয়। তারপর শুরু হয় ওবিসি জাতির সংখ্যা ৬৬ থেকে বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। তৃণমূল জমানায় আরো জাতি অন্তর্ভুক্ত করায় তা মোট ১৪০-এ পৌঁছায়। রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমদের একটি বড়ো অংশকে ওবিসির আওতায় আনা হয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত কয়েকটি মুসলিম জাতি এই তালিকায় ছিল। এই সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা হয়। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি সরকারিভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কীভাবে তা কার্যকর হবে তখন সেটা বলা হয়নি।