Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামের জারুলিয়ায় হাতির তাণ্ডবে ভাঙল ৭টি কাঁচা বাড়ি, বনকর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ গ্ৰামবাসীদের

ঝাড়গ্রামে হাতির হানা অব্যাহত। শনিবার নেদাবহড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের জারুলিয়া গ্ৰামে ১৭টি হাতি ভোররাতে সিং পাড়ায় তান্ডব চালায়।

ঝাড়গ্রামের জারুলিয়ায় হাতির তাণ্ডবে ভাঙল ৭টি কাঁচা বাড়ি, বনকর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ গ্ৰামবাসীদের
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে হাতির হানা অব্যাহত। শনিবার নেদাবহড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের জারুলিয়া গ্ৰামে ১৭টি হাতি ভোররাতে সিং পাড়ায় তান্ডব চালায়। সাতটি মাটির বাড়ি ভেঙে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ওই বাড়িগুলির বাসিন্দারা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মীরা এলাকায় এলে তাঁদের ঘিরে এদিন সকালে বিক্ষোভ দেখানো হয়। 

Advertisement

ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ক্ষতিগ্ৰস্ত পরিবারের সদস্যদের এক সপ্তাহের মধ্যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। নেদাবহড়ার ঘাটিডোবা, জারুলিয়া, আঁধারিশোলের মতো গ্ৰামগুলিতে গাড়ি নিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে। যে সব গ্রামে রাতে রাস্তা অন্ধকার থাকে সেখানে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা হবে। কোনও জায়গায় হাতির দল তান্ডব চালালে সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের এবার প্যাকেটজাত খাবার ও ত্রিপল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বনবিভাগের উদ্যোগ সত্বেও হাতির হানা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের অভাবকেই এজন্য দায়ী করা হচ্ছে। জমির ফসল উঠে গিয়েছে। বৃষ্টির জেরে সব্জির জমি জলের তলায় ডুবে গিয়েছে। আম, কাঁঠাল ও কাজু বাদামের বাগানে ঢুকতে বাঁধা পাচ্ছে। হাতির পাল নিরুপায় হয়ে গ্ৰামগুলিতে ঢুকে নির্বিচারে বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। হাতির পালের সংরক্ষিত বিচরণভূমি না থাকলে সমস্যা মেটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দিনেই এখন নিরাপদ নয় জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামের পথ। সন্ধ্যার পর পথে যান চলাচল কমে যাচ্ছে। গ্ৰামের মানুষজন বিকেলের আগেই বাড়ি ফিরে আসছেন। স্কুলগুলোতে পড়ুয়াদের সংখ্যা কমছে। বাইরে যারা কাজ করেন রাতে দলবেঁধে ফিরছেন। রাতের বেলাতেও বাড়িতে থাকা নিরাপদ হচ্ছেনা। আতঙ্ক গ্ৰাস করছে গ্ৰামবাসীদের। বনবিভাগের হাল ছাড়া মনোভাব গ্ৰামবাসীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলছে। শনিবার ভোররাতে জারুলিয়া গ্ৰামের সিং পাড়ায়, ঠাকুর দাস সিং, পূর্নিমা সিং, নিয়তি সিং, উর্মিলা সিং, গোকুল সিং ও অপর এক আরতি সিং, নিয়তি সিংয়ের বাড়িতে হাতির দল ভাঙচুর চালায়। বাড়ি ভাঙায় দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা চরম বিপদের মধ্যে পড়েছেন। গ্ৰামবাসীরা সকালে বনবিভাগের কর্মীদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে‌। পুলিস এসে পরিস্থিতি সামলায়। গ্ৰামের বাসিন্দা পূর্ণিমা সিং বলেন, রাতে ঘুমিয়েছিলাম। ঘরে হাতির জোর ধাক্কা দেওয়া শুনে ঘুম ভেঙে যায়। ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘরের কোণে দাঁড়িয়েছিলাম। হাতিটা আর একটু হলে আমাদের নাগাল পেয়ে যেত। কোনও দিকে পালাবার পথ ছিল না। ফরেস্টের লোকদের গ্ৰামে হাতি ঢোকা আটকাতে বারবার বলা হয়েছে। আমাদের কথা গ্ৰাহ্য করেনি। মাটির বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। মাথা গোঁজার জায়গাটুকু নেই। গ্ৰামের বাসিন্দা প্রশান্ত মাহাত বলেন, হাতির পাল দিনরাত এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাত হলে  মানুষজন দলবেঁধে চলাফেরা করেন। বাড়িঘর কখন ভাঙচুর করবে তার কোনও ঠিক নেই। আতঙ্কের মধ্যে  দিন কাটছে। নেদাবহড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোপাল মুর্মু বলেন, হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র এই পরিবারগুলির বাড়ি তৈরি করার সামর্থ্যটুকু নেই। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। চারিদিকে হাতির দল খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতির দলটি আবার গ্ৰামে আসার আশঙ্কা রয়েছে। গ্ৰামবাসীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ