অভিষেক পাল, বহরমপুর: বাংলায় কথা বললেই জুটছে বাংলাদেশি তকমা! ফের বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে ওড়িশায়। ভুবনেশ্বর পুলিস আটক করেছে মুর্শিদাবাদের নয় বাসিন্দাকে। জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে কর্মস্থল থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে যায় পুলিস। মঙ্গলবার দিনভর তাঁদের মধ্যে সাতজনকে ছাড়া হয়নি বলেই অভিযোগ। সমস্ত নথি দেখানো সত্ত্বেও তাঁদের ছাড়া হয়নি। পুলিসের অত্যাচারে রীতিমতো আতঙ্কিত পরিযায়ী শ্রমিকরা। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে প্রায় প্রতি মাসেই লক্ষ লক্ষ যুবক ভিন রাজ্যে কাজে যায়। অধিকাংশই ওড়িশা, বেঙ্গালুরু, কেরল, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, হায়দরাবাদে কাজে যায়। নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে মুর্শিদাবাদের যুবকদের কদর আছে ভিন রাজ্যে। কিন্তু ইদানীং ভিন রাজ্যে গিয়ে বারবার তাঁদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে। কখনও পুলিস প্রশাসনের হাতে, কখনও স্থানীয় মানুষের হাতে।
হরিহরপাড়ার বাসিন্দা সামিউল শেখ কিছুদিন আগে ভুবনেশ্বরের নখরা এলাকায় কাজে যান। সোমবার রাতে পুলিস কাজের সাইট থেকে তাঁকে এবং তার কয়েকজন বন্ধুকে তুলে নিয়ে যায়। পরিচয় দিয়েও রেহাই মেলেনি তাঁদের। আইডি প্রুফ দেখালেও পুলিস জবরদস্তি তাঁদের থানায় ধরে নিয়ে যায়। ন’ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। মুর্শিদাবাদের নওদার দুই বাসিন্দাকে তারা ছেড়ে দিলেও বাকিদের ছাড়া হয়নি। শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা শুনে মুর্শিদাবাদ থেকে তাঁদের পরিজনরা স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিস এবং প্রশাসনকে জানিয়ে ঘরের ছেলেদের উদ্ধার করতে সরাসরি ভুবনেশ্বরে পৌঁছচ্ছেন।
সামিউলের বাবা শরিফুল ইসলামও বুধবার ভুবনেশ্বর পৌঁছন। তিনি বলেন, বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি ভেবে নিচ্ছে। বাংলায় কথা বলা কি অপরাধ? আমার ছেলে এই প্রথম অন্য রাজ্যে কাজ করতে এসেছে। এভাবে ওকে পুলিস আটক করবে তা কখনওই ভাবিনি। বাংলাদেশি সন্দেহে ওদের জোর করে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে, ওরা আই কার্ড দেখালেও পুলিস শোনেনি। আমার ছেলের পাশাপাশি মোট ন’ জনকে আটক করেছে। প্রত্যেকেই বাঙালি। গত কয়েকদিনে মোট ১৫০ জনকে এভাবে আটক করেছে পুলিস।
হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ বলেন, কয়েকদিন আগেই আমাদের এলাকার কয়েকজনকে মহারাষ্ট্র পুলিস আটক করেছিল। তাঁদের বাংলাদেশি মনে করা হয়েছিল। আমরা এখান থেকে সমস্ত ডকুমেন্টস পাঠিয়েছিলাম, তারপর ওঁদের ছাড়া হয়। ওড়িশাতে কাজে গিয়ে একই সমস্যায় পড়েছেন এখানকার যুবকরা। আমরা তাঁদের পাশে আছি এবং তাঁদের উদ্ধার করা হচ্ছে। ওঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা হরিহরপাড়ার যুবক শামিম রহমান বলেন, মুর্শিদাবাদের শ্রমিকদের দেখলেই অন্য রাজ্যে আক্রমণ করা হচ্ছে। হরিহরপাড়ার যে যুবককে আটক করা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে আটজন আছে। আমরা অধিকাংশ যুবকের স্থানীয় ডকুমেন্টস এবং সচিত্র পরিচয়পত্র সেখানকার পুলিসকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। ওরা কেউ বাংলাদেশি নয়, সকলেই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ফাইল চিত্র