Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওড়িশা ছাড়তে হুমকি ৭ জন বাঙালি শ্রমিককে

ফের ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওড়িশা ছাড়তে হুমকি ৭ জন বাঙালি শ্রমিককে
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: ফের ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে সে রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে— বৈধ পরিচয়পত্র থাকার পরেও সাগরপাড়ার সাত শ্রমিককে ‘রোহিঙ্গা’ , ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে ডাকা হয়েছিল থানায়। অভিযোগ, ওই সাত শ্রমিককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওড়িশা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। আতঙ্কিত হয়ে ইতিমধ্যেই তাঁরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শ্রমিকরা সবাই খয়রামারী পঞ্চায়েতের খানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ওই পঞ্চায়েতের সাহেব শেখ, তাঁর বাবা সামেদ শেখ, জ্যাঠা রশিদ শেখ ও তাঁর মামা আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরেই ওড়িশায় থাকতেন। তাঁরা সেখানেই মাদুর, বিছানার চাদর ফেরি করতেন। প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তাঁরা ওই কাজে ওড়িশায় থাকেন। গত ২৭ নভেম্বর অন্যান্যরা ফেরি করতে বেরোলেও কাজে যাননি সাহেব শেখ। বেলা দু’টো-আড়াইটে নাগাদ তাঁদের ভাড়া ঘরে হানা দেয় স্থানীয় ওদাগাঁও থানার পুলিশ। ঘরে ঢুকেই নাম জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বাংলায় কথা বলতেই, ‘রোহিঙ্গা’, ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ, এমনকী বুকে লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ। সন্ধ্যায় তাঁদের থানায় ডাকা হয়। সেই মতো সন্ধ্যায় সাহেব ও বাকিরা থানায় যান।  সেখানে সমস্ত পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা হয়। অভিযোগ, সেখান থেকেই আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের ওড়িশা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এরপরই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন তাঁরা। বাড়ির লোকজনদেরও ব্যাপক আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে তাঁরা মালপত্র বিক্রি করে বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। গত মঙ্গলবার তাঁরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

Advertisement

সাহেব শেখ বলেন, দিন কয়েক আগে আমাদের এলাকার এক শ্রমিককে মারধর করে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিইয়েছিল সেখানকার লোকজন। এবার আমাদের বাংলাদেশি রোহিঙ্গা সন্দেহে হেনস্তা করা হল, তাও আবার পুলিশ এই কাজ করল। প্রায় ১৮-২০ বছর ধরে ওড়িশায় ফেরি করি, কখনও এমন ঘটেনি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই সমস্যা বাড়ছে। আমাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওড়িশা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভয়ে আমরা আড়াই- তিন লাখ টাকার মাল অর্ধেক দামে বিক্রি করে দিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। শুধু আমাদের সঙ্গেই নয়, আমাদের এলাকার আরও কয়েকজনের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
দিন কয়েক আগে ওড়িশায় ফেরি করতে যাওয়া সাগরপাড়ার এক শ্রমিককে ব্যাপক মারধর করা হয়। তার সপ্তাহ কয়েক আগেও একইভাবে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, ওড়িশায় বিজেপি সরকার ক্ষমতা আসার পর থেকেই এই ভাবে বাঙালি শ্রমিকদের ওপরে অত্যাচার হচ্ছে। এগুলো শুধু অত্যাচারই নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমরা মানবাধিকার কমিশন সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছি।
ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, ঘটনার খবর আমাদের কাছে রয়েছে। আমাদের তরফে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে তাঁদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে ওই জেলার এসপিকে ট্যাগ করে লিখেছেন, সম্পূর্ণ বৈধ কাগজপত্রসহ ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ওড়িশার ওদাগাঁও থানার পুলিশ চারজন বাঙালি শ্রমিককে জেলা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলেছে। ভাড় বাড়ির মালিককেও চাপ দিয়েছে তাদের ঘর থেকে বের করে দিতে। পাশাপাশি গ্রেফতারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অথচ মুর্শিদাবাদ জেলার এসপি ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই করার পরও এই ঘটনা ঘটেছে। এটা বেআইনি এবং আমাদের সংবিধানের পরিপন্থী। আমি আপনার বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছি, তাই প্রস্তুত থাকুন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ