নিজস্ব প্রতিনিধি, ধানতলা: মাঝে অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তারির গ্রাফ একধাক্কায় নেমে গিয়েছিল। ফলে তদন্তকারীরা মনে করেছিলেন, অনুপ্রবেশে বোধহয় ভাটা পড়েছে। কিন্তু, ফের ধানতলা থানার অভিযানে সাতজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। তা দেখে ফের চিন্তার ভাঁজ পড়ছে পুলিস আধিকারিকদের কপালে। পুলিস ধৃতদের সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকটি শিশুকেও উদ্ধার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার ধানতলা থানার বরণবেড়িয়া এলাকা থেকে ওই অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সূত্রে পুলিস খবর পায়, নিরালাপাড়া এলাকায় একটি জায়গায় লুকিয়ে রয়েছে বেশকিছু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের ভারতীয় দালালের সহযোগিতায় তারা বাংলাদেশ পালানোর ছক কষছে। এরপর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাত অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারজন শিশুকেও। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই বাংলাদেশের খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানার বালিয়াডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় দু’বছর আগে তারা একাধিক ভারতীয় দালালের সাহায্যে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। এরপর তারা প্রথমে গুজরাতের আহমেদাবাদে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। সম্প্রতি তারা ফের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই উদ্দেশ্যেই ধানতলায় এসে জড়ো হয় তারা। সেখান থেকেই মানব পাচার চক্রের দালালদের সাহায্যে বেআইনি পথে শুকনো ইছামতি অথবা তারকাঁটাহীন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এদের সঙ্গে একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের যোগ থাকতে পারে।
ইতিমধ্যে দালালচক্রে জড়িত ভারতীয় সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিস। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বেআইনি অনুপ্রবেশ ও মানব
পাচারের বিরুদ্ধে আমরা কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছি। - নিজস্ব চিত্র