পিনাকী ধোলে,পুরুলিয়া: ফি গ্রীষ্মে জলের জন্য হাহাকার শুরু হয় পুরুলিয়ায়। তীব্র পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দেয়জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বাসিন্দাদের চাহিদা মেটাতে ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহ করে থাকে জেলা প্রশাসন। গত দু’বছরে জেলার খরাপ্রবণ বিভিন্ন গ্রামে ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহ করেই খরচ হয়েছে প্রায় প্রায় ৬৮ কোটি টাকা! খরচের বহর নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে ঠিকাদারদের ‘অশুভ আঁতাত’-এর গন্ধ পাচ্ছেন তাঁরা। বিপুল খরচ আটকাতে ট্যাঙ্কারে জিপিএস লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর।
নিজেদের বকেয়ার দাবিতে গত ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেছেন পিএইচই দপ্তরের কাজে যুক্ত ঠিকাদাররা। ঠিকাদারদের দাবি,জল জীবন মিশন প্রকল্পে তাঁদের প্রায় ১২৮ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে জেলার খরাপ্রবণএলাকায় জল সরবরাহ এবং ভোটের সময় ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহের জন্যপ্রায় ৬৮ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। জেলার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রের খবর, গত ২০২৩ সালে ট্যাঙ্কারে পানীয় জলসরবরাহে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। ওই বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে জল সরবরাহে খরচ হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে গ্রীষ্মে ট্যাঙ্কারে করে পানীয় জল সরবরাহে খরচ হয়েছে প্রায় ১০কোটি টাকা। ওই বছর লোকসভা নির্বাচনে ট্যাঙ্কারে করে পানীয় জল সরবরাহে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা। বিরোধীদের প্রশ্ন, ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, সেই টাকায় তো কয়েকশ সোলার পাম্প হয়ে যেত!
এনিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, সরকারি টাকা লুটের জন্য পরিকল্পনা করেই বিপুল পরিমাণ বিল দেখানো হয়েছে। সঠিক তদন্ত করলে দেখা যাবে, জেলার খরাপ্রবণ এলাকায় হয়তো জলের ট্যাঙ্কারই পৌঁছয়নি। জেলার বাসিন্দাদের অসহয়তার সুযোগ নিয়ে প্রশাসনের এক শ্রেণির আধিকারিক থেকে শুরু করে শাসকদলের নেতারা কোটি কোটি টাকা এইভাবেই লুট করছে। যদিও পুরুলিয়ার মানভূম পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, প্রশাসনই তো টেন্ডার ডেকেছে। আমাদের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে। যেখানে জল দিতে বলেছে, আমরা সেখানে জল পৌঁছে দিয়েছি। নিজেদের পকেট থেকে টাকা ইনভেস্ট করে জল সরবরাহ করেছি।সেই টাকা এখনও পাইনি। আমাদের বকেয়া অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া হোক।
ঠিকাদারদের একাংশ অবশ্য মানছেন, জলের বহু টাকা হরির লুট হয়েছে। ভোটের আগে নেতারা বাসিন্দাদের মন জয় করতে নিজেদের ইচ্ছামতো ট্যাঙ্কারে জল সরবরাহের জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। প্রশাসনও যাচাই না করেই জলের ট্যাঙ্ক ইস্যু করে দিয়েছেন। তবে, সেই ট্যাঙ্ক আদৌ গ্রামে গিয়ে জল সরবারাহ করল, নাকি ভুয়ো বিল ইস্যু করল, তা দেখবে কে? এই পরিস্থিতিতে বিপুল খরচ আটকাতে অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। এগজিকিউটিভইঞ্জিনিয়ার সনৎ অধিকারীবলেন, বর্তমানে সমস্ত ট্যাঙ্কারে জিপিএস লাগানো হয়েছে।কোথাও জলের ট্যাঙ্কারের জন্য আবেদন এলে তা বিভিন্ন স্তর থেকে যাচাই করে তবেই জল সরবরাহ করা হচ্ছে।